kalerkantho

চলন্ত অটোরিকশায় হাত-পা চেপে ধরে জবাই করা হয় আলমগীরকে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:১৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চলন্ত অটোরিকশায় হাত-পা চেপে ধরে জবাই করা হয় আলমগীরকে

আলমগীর হোসেন।

দীর্ঘদিন এক সঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন আলমগীর হোসেন ও মেহেদি হাসান রুবেল। সেই সুবাধে আলমগীরের কাছ থেকে রুবেল ছয় লাখ টাকা ধার নেন। ধারের টাকা আনতে আলমগীর ছুটে যান রুবেলের কাছে। তিন লাখ টাকা দিয়ে বাকি টাকা দেওয়ার কথা বলে রুবেল একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় আলমগীরকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেন। তাদের সঙ্গে ফয়েজ নামের এক ব্যক্তিও ছিলেন। আর অটোরিকশার পেছনের সিটে রুবেল এবং ফয়জের মাঝখানে বসা ছিলেন আলমগীর।

পরে দালালবাজার-রামগঞ্জ সড়কের মীরগঞ্জ এলাকায় চলন্ত অটোরিকশায় রুবেল হাত-পা চেপে ধরলে আলমগীরকে জবাই করেন ফয়েজ। একপর্যায়ে আলমগীরের লাশ কাজিরদিঘীর পাড় এলাকার একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে চলে যান তারা। হত্যা করার পর তিন লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা পেশাদার কিলার ফয়েজকে দেওয়া হয়। বাকি আড়াই লাখ টাকা রুবেল নিয়ে যান। মূলত টাকা আত্মসাৎ করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। 

হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ঘাতক রুবেলের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে শুক্রবার দুপুরে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোক্তার হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর হত্যার পরিকল্পনাকারী রুবেল ও অটোরিকশা চালক সাগরকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল কাদের তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০ টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঘাতক রুবেল সদর উপজেলার পশ্চিমবটতলী এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ও সাগর দক্ষিণ মান্দারীর জামাল উদ্দিনের ছেলে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি ও আত্মসাত করা আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার করেছে ডিবি।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে পাওনা টাকা আনতে আলমগীর হোসেন সদর উপজের মান্দারীতে রুবেলের কাছে যান। বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার কাজিরদিঘীর পাড় এলাকার একটি পুকুর থেকে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত আলমগীরের ভাই হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত আলমগীর (৪৫) রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সাইছা গ্রামের মৃত. বশির উল্যার ছেলে। তিনি রায়পুর পৌরসভার এলাকার তানহা কম্পিউটার দোকানের স্বত্ত্বাধিকারী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা