kalerkantho

অভয়নগর

পাকা ঘরে ঠাঁই হয়নি বৃদ্ধ বাবার, কপালে জুটেছে পাশের মাচা

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ১২:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাকা ঘরে ঠাঁই হয়নি বৃদ্ধ বাবার, কপালে জুটেছে পাশের মাচা

ছেলে শংকর ভদ্র কাঠ ব্যবসায়ী। স্ত্রী মিতা ভদ্রকে নিয়ে পাকা দালানঘরে বসবাস তাঁর। অথচ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে ফেলে রেখেছেন বাইরের একটি মাচার ওপর। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছেলে শংকর ভদ্র একজন কাঠ ব্যবসায়ী। স্ত্রী মিতা ভদ্রকে নিয়ে পাকা দালান ঘরে বসবাস তাঁর। অথচ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী অসুস্থ বৃদ্ধ পিতাকে ফেলে রেখেছেন বাইরের একটি মাচার ওপর। এমনই এক মানবেতর জীবন নিয়ে, ছেঁড়া কাপড় জড়িয়ে কোনো রকম বেঁচে আছেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার মধ্যপুর গ্রামের মিস্ত্রিপাড়ার বৃদ্ধ নারায়ণ ভদ্র (৬৫)।

একসময় যে পিতা তাঁর ছেলেকে কোলে-পিঠে নিয়ে বড় করেছিলেন, আজ তিনি নিজেই উপেক্ষিত। সেই সন্তান বড় হয়ে স্ত্রীকে নিয়ে পাকা দালান ঘরে সাজানো বিছানায় ঘুমালেও বৃদ্ধ পিতাকে থাকতে হয় একটিমাত্র টিনের নিচে ভাঙা মাচার ওপর। যেখানে নেই কোনো মশারি বা বিছানা।

সরেজমিনে মিস্ত্রিপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধ নারায়ণ ভদ্র বাড়ির বাইরে কাঠের মাচার ওপর প্রায় বস্ত্রহীন অবস্থায় পড়ে আছেন। বিছানার আশপাশ দুর্গন্ধ ও কাদামাটিযুক্ত। বিছানায় নেই কোনো চাদর। ওপরে একটিমাত্র টিনের চাল। তিন পাশ খোলা।

কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিকে দেখে ছুটে এলেন বৃদ্ধের ছেলে বৌ মিতা ভদ্র। তিনি বলেন, শ্বশুর দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ। শ্বশুরের মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর থেকে সার্বক্ষণিক ওষুধ ও দেখভাল করেন তিনি। কত দিন ধরে ঘরের বাইরে রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০ দিন ধরে বাবাকে ঘরের বাইরে রাখা হয়েছে। এর আগে বাড়ির মধ্যেই থাকতেন তিনি। খাট ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বাইরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। তা ছাড়া তাঁকে ঘরের মধ্যে রাখা যায় না, মাথায় সমস্যার কারণে সব কিছু ওলট-পালট করেন।

চিকিৎসার বিষয় জানতে চাইলে বলেন, স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসককে দেখানো হয়। সরকারি হাসপাতালে এমবিবিএস ডাক্তার থাকতে পল্লী চিকিৎসককে কেন জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মাথায় সমস্যা; ঠিকমতো কাপড় পরেন না। কোনোভাবেই ডাক্তারের কাছে নেওয়া যায় না!’

মুঠোফোনে কথা হয় বৃদ্ধ নারায়ণ ভদ্রের ছেলে শংকর ভদ্রের সঙ্গে, তিনি অনুনয়-বিনয় করে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান। পিতাকে এমন অবহেলা-অযত্নে ঘরের বাইরে ফেলে রাখার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে এখন থেকে পিতার প্রতি যত্নবান হবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, প্রায় এক মাস হয় এভাবে ঘরের বাইরে ফেলে রাখা হয়েছে বৃদ্ধ মানুষটিকে। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে একটিমাত্র টিনের নিচে পড়ে থাকেন তিনি। নারায়ণ ভদ্রের স্ত্রী প্রায় ১০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ছেলে ও বৌমার সঙ্গে থাকলেও অযত্ন-অবহেলায় ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে সমস্যা শুরু হয় তাঁর। বর্তমানে কাউকে মনে রাখতে পারেন না। এ মানুষটির সুচিকিৎসা হলে সুস্থ হয়ে উঠতেন এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিবেশীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা