kalerkantho

টমটম গাড়ির জন্য খুন করা হয় সাইদুলকে

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০১:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টমটম গাড়ির জন্য খুন করা হয় সাইদুলকে

টমটম (ইজিবাইক) গাড়ির জন্য সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের সাইদুল ইসলাম (১৭) নামে এক চালককে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে তার মরদেহ খালের ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ চালকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জন্য  সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রেরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে বিকেলে নিহতের লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। বিকেল ৫টায় নিহতের জানাজা নামাজ শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাছিরনগর থানার হাতিকুড়া গ্রামের গোপাল দেবনাথের ছেলে কাজল দেবনাথকে টমটম গাড়িসহ আটক করে।

পুলিশ ও নিহত পরিবারের লোকজন জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের বাউরকাপন গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে টমটম চালক সাইদুল ইসলাম গত ১১ আগস্ট সকালে টমটম গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় চালকের বড় ভাই রিয়াজুল হক জগন্নাথপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। গত বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ খবর পায় নিখোঁজ টমটম চালকের লাশ সিলেটের রশিদপুর এলাকায় পাওয়া গেছে। এ খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোররাতে পুলিশ ওই চালকের গলিত লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ টমটম গাড়িসহ কাজল দেবনাথকে তার গ্রামের বাড়ি থোক আটক করে।

জগন্নাথপুর থানা পুলিশের একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, থানায় আটককৃত কাজল দেবনাথ হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় সে নিজে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। এ হত্যাকাণ্ডে রশিদপুর বাজারের ভাঙারি ব্যবসায়ী বিলাল ও বাজারের নৈশ প্রহরী শরিফ মিয়া জড়িত। ওই সূত্র জানায়, নৈশ প্রহরী শরিফ মিয়া টমটম চালক সাইদুলকে মোবাইলে কল দিলে রশিদপুর ডেকে নেয়। পরে চালককে তারা হত্যা করে তার লাশ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের রশিদপুর এলাকায় খালের ঝোপে ফেলে দেয়।

নিহতের বড়ভাই রিয়াজুল হক বলেন, আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ঘাতকরা হত্যা করেছে। আমি আমার ছোট ভাইয়ের ঘাতককের ফাঁসি চাই।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিনয জানান, টমটম গাড়ির জন্য চালক সাইদুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে। আটককৃত ঘাতক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তার স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী নিহতের ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে আরো কয়েকজন জড়িত আছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা