kalerkantho

খুন হওয়া প্রবাসী যুবকের লাশের খোঁজ মেলেনি ১৮ দিনেও

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২২ আগস্ট, ২০১৯ ২২:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুন হওয়া প্রবাসী যুবকের লাশের খোঁজ মেলেনি ১৮ দিনেও

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে খুন হওয়া প্রবাসী মোশারফ হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের লাশের খোঁজ মেলেনি গত ১৮ দিনেও। নিখোঁজ যুবকের লাশের সন্ধান পেতে ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার সীমাবর্ন্তী গজারিয়া বিল ও এর আশপাশের এলাকায় গত ১৭ আগস্ট থেকে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও এলাকার সাধারণ মানুষ অনুসন্ধান চালালেও লাশের সন্ধান মেলেনি।

তবে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একই গ্রামের নাছিমা আক্তার নামে এক গৃহবধূ ও তার ভাবি সোনিয়া বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। 

নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসী জানায়, উপজেলার দিগর ইউনিয়নের নয়াবাড়ি সেকান্দর মিয়ার ছেলে মোশারফ। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী। গত ৪ আগস্ট উপজেলার কদমতলী গরুর হাট থেকে ফেরার পথে তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন এ বিষয়ে মোশারফের ছোট ভাই সজীব ঘাটাইল থানায় একটি জিডি করেন। জিডির সূত্র ধরে একই গ্রামের আরেক প্রবাসী ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী নাছিমা আক্তারকে গত ১৬ আগস্ট  আটক করে ঘাটাইল থানার পুলিশ। গৃহবধূ নাছিমা আক্তার কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা গ্রামের মেছের মণ্ডলের মেয়ে।

ঘাটাইল থানার এস আই শাহিন মিয়া জানান, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাছিমা জানায়- মোশারফের সাথে তার পরকিয়া সম্পর্ক ছিল। গত ৪ আগস্ট কদমতলী গরুর হাট ফেরার পথে কৌশলে মোশারফকে গজারিয়া বিলে নিয়ে নাছিমা এবং তার ভাই মাদরাসা শিক্ষক আখতার হাত-পা বেঁধে বিলের পানিতে ডুবিয়ে খুন করে। পরে তার লাশ বস্তায় ভরে খুঁটির সাথে বেঁধে বিলের পানিতে ডুবিয়ে রাখে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কালিহাতী থানার এসআই নাসির উদ্দিন বলেন, পরকিয়া ও পাওনা টাকা চাওয়া থেকেই এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে  দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গৃহবধূ নাছিমা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি কারাগারে আছেন। আর নাছিমার ভাবি সোনিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

মামলার বাদী ও নিহতের ছোট ভাই সজীব জানান, ২০১২ সাল থেকে আমার ভাই সৌদিতে ছিলেন। তিনি কষ্টার্জিত টাকা-পয়সা নাছিমাকে পাঠিয়েছেন। এবার রমজান মাসে দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাওয়ায় নাছিমা ও তার ভাই মিলে আমার ভাইকে নির্মমভাবে খুন করেছেন। আমি আমার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার, প্রধান আসামি আখতার মাস্টারের গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত বিচার চাই।

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আল মামুন জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধারের অভিযান চলছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই লাশ উদ্ধার করা যাবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা