kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

অপহরণ মামলার আসামি হয়ে প্রেমিক হাজতে!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২২ আগস্ট, ২০১৯ ২২:২৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অপহরণ মামলার আসামি হয়ে প্রেমিক হাজতে!

রঙ নাম্বারে ফোন। এক পর্যায়ে প্রেম। প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে বিপাকে পড়েন প্রেমিক। পরিবারের লোকজন আটক করে বাড়িতে এনে বিয়ের প্রস্তাবে বেঁকে বসেন তিনি। পরে অপহরণের অভিযোগ দিয়ে তাকে পুলিশে তুলে দেওয়া হয়। এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের পংকরহাটি গ্রামে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে রঙ নাম্বারে পরিচয় হয় উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের উলুহাটি গ্রামের আব্দুর রজ্জাকের ছেলে মো. রিয়াদের (২২)। পরিচয়ের পর ভালোলাগা তৈরি হয়। গতকাল বুধবার প্রেমিক রিয়াদ প্রেমিকাকে দেখতে ফোন করে ডেকে এনে এক বন্ধুর সাথে ময়মনসিংহে পাঠায়। এ অবস্থায় রিয়াদ পরে আসবে বলে জানায়। ময়মনসিংহে তাদের দুজনের বিয়ে হবে বলে রিয়াদ তাকে জানায়। কিন্তু ময়মনসিংহে যাওয়ার পর স্কুলছাত্রী বুঝতে পারে সে রিয়াদের ফাঁদে পড়েছে। পরে স্কুলছাত্রী তার পরিবারের লোকজনকে জানালে তারা রিয়াদকে সাথে নিয়ে ময়মনসিংহে যায়। সেখান থেকে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও রিয়াদকে সাথে নিয়ে ফের নান্দাইলের পংকরহাটি গ্রামে আসে।

সেখানকার লোকজন জানায়, মেয়েকে নিয়ে গিয়ে মানসম্মান ক্ষুণ্ণ করেছে তাই রিয়াদকেই বৃহস্পতিবার বিয়ে করতে হবে। এ অবস্থায় বিয়ের কথাবার্তা চলতে থাকলে বেঁকে বসে রিয়াদ। এক পর্যায়ে রিয়াদ চলে যেতে চাইলে উত্তম মধ্যম দিয়ে তাকে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় রিয়াদ ফোন করে বন্ধুদের অবহিত করলে তারা (বন্ধু) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘটনা অবহিত করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালাবদ্ধ একটি ঘর থেকে রিয়াদকে উদ্ধার করে। এক পর্যায়ে রিয়াদকে আটক করে থানায় আনা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম সুজন জানান, তিনি খবর পেয়েছিলেন ওই এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক ছেলেকে আটকে রেখে আরেক অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলছাত্রীর সাথে বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুলছাত্রীর পরিবার ছেলের বিরুদ্ধে মেয়ে অপহরণের অভিযোগ তোলে। পরে দুইজনকেই থানায় এনে স্কুলছাত্রীর বাবার লিখিত অভিযোগে অপহরণ মামলা নেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিয়াদ জানান, তিনি বিবাহিত। একদিন রঙ নাম্বারে ওই মেয়ের সাথে কথা হয়। পরে মেয়েই মাঝে মধ্যে ফোন দিত। পরে আমি শুধু দেখা করি। এখন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আটকে রেখে অপহরণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা