kalerkantho

গুম নয়, নানার কাছেই ছিলো আসলাম

ওসির দূরদর্শিতায় ১ মাস ২১ দিন পর উদ্ধার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২২ আগস্ট, ২০১৯ ২১:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুম নয়, নানার কাছেই ছিলো আসলাম

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নিজের ভাতিজাকে প্রতিপক্ষরা গুম করে হত্যা করতে পারে। এই ধারণা নিয়ে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় থানায়। ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এই অভিযোগের তদন্ত করে মামলা না নিয়েই নিজ কৌশলে এক মাস ২১ দিন পর গুম হওয়া আসলামকে (১৬) গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর উদ্ধার করেন। তার এই দূরদর্শিতার কারণে ১২ জন নিরীহ লোক মামলা থেকে রক্ষা পায়। অন্যদিকে মিথ্যা অভিযোগ করায় মামলার বাদীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরশ্রীরামপুর গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে রমজান আলী (৫০)। তার সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুছ ছাত্তার (৬০) ও আব্দুর রহিমদের (৫৫) সঙ্গে ৪৫ শতক জমি নিয়ে বিরোধসহ মামলা মোকদ্দমা চলে আসছে। এর মধ্যে এক মামলায় গত এক বছর আগে মারা যাওয়া রমজান আলীর ভাই আব্দুল মান্নানকে আসামি করে প্রতিপক্ষ। মৃত মান্নানের এক মাত্র ছেলে আসলাম (১৬) ছোটবেলা থেকেই টঙ্গী এলাকার অজ্ঞাত স্থানে নানার আশ্রয়ে থাকে। এই অবস্থায় তাকে ব্যবহার করে রমজান আলী ১২ জনকে অভিযুক্ত করে গত ২ আগস্ট নান্দাইল থানায় ভাতিজাকে গুম করে হত্যা করতে পারে মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান উপ-পরিদর্শক লিটন মিয়া। তিনি রহস্যজনক এই ঘটনাটি তদন্তে নেমে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর আঁচ করতে পারেন। 

নান্দাইল থানার ওসি মনসুর আহাম্মাদ জানান, অভিযোগটি রেকর্ডভুক্ত করতে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করে বাদী ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। ঘটনাটি সন্দেহ হলে মামলা নথিভুক্ত না করে স্পর্শকাতর এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। পরে গত বুধবার নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায় যে, আসলাম তার নানা আলী হোসেনের কাছে টঙ্গীতেই অবস্থান করছে। এই অবস্থায় সেখান থেকে কৌশলে বুধবার সন্ধ্যার পর নানার মাধ্যমে নান্দাইল থানায় আনা হয় আসলামকে। তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই বাদী রমজান আলী মিথ্যার আশ্রয় নেয়।’

এ দিকে গত বুধবার রাত নয়টার পর নান্দাইল থানায় গিয়ে দেখা যায়, গুম হওয়া আসলাম তার নানান সঙ্গে উপ-পরিদর্শক লিটন মিয়ার কক্ষে অবস্থান করছে। সঙ্গে রয়েছেন তাকে গুম করে ফেলার অভিযুক্তরা। এ সময় আসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয় তাকে কে গুম করেছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে আসলাম জানায়, সে গুমের বিষয়ে কিছুই জানে না। এতোদিন নানা আলী হোসেনের কাছেই ছিলো। তাকে কেউ গুম করেনি। তার মাকে নিয়ে সে নানার কাছেই বসবাস করে আসছে। 

তার নানা (মায়ের বাবা) আলী হোসেন জানান, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই রমজান আলী আসলামকে ব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিল। তিনি এ ঘটনার জন্য রমজানের বিচার চান। 

গুম করা অভিযোগে অভিযুক্ত সবুজ মিয়া জানান, তার বাবা, চাচা ও চাচাতো ভাইসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা দেওয়ার পর থেকেই আসলামের খোঁজ করা হতে থাকে। পরে নান্দাইল থানার ওসির হস্তক্ষেপে টঙ্গী থানার সহয়তায় আলী হোসেনের (আসলামের নানা) খোঁজ নিয়ে আসলামের সন্ধান পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমজান আলী জানান, তিনি মিথ্যা অভিযোগ করেননি। ভাতিজা আসলামকে গুম করে ফেলে আমাকে বেকায়দায় ফেলবে গত কয়েক দিন ধরে এ ধরনের কথা বলে আসছিল প্রতিপক্ষরা। তাই খোঁজ করে তাকে না পেয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল। পরে পুলিশের চাপে পড়ে প্রতিপক্ষরা আসলামকে থানায় নিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা