kalerkantho

গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা, বিচার স্রেফ জুতাপেটা!

অভিযোগ, মাতবরদের পকেটে ৪০ হাজার টাকা

নাটোর প্রতিনিধি    

২২ আগস্ট, ২০১৯ ১০:০৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা, বিচার স্রেফ জুতাপেটা!

জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রাম্য সালিসে কয়েকটি জুতার বাড়ি দিয়েই বিচার শেষ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্তের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করে মাতবররা ভাগাভাগি করে নিয়েছে।

সালিস, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট দুপুরে উপজেলার কুমরুল পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে ভ্যানচালক বোরহান উদ্দিন একই গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়িতে বাজার থেকে কেনা চাল পৌঁছে দিতে যায়। এ সময় ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা ওই গৃহবধূকে (৩২) একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। গৃহবধূ চিত্কার শুরু করলে বোরহান দ্রুত ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি গ্রামের মাতবরদের জানালে তারা থানায় যেতে নিষেধ করে এবং গত মঙ্গলবার রাতে গ্রামের শ্রি লালুবাবুর বাড়িতে সালিস বৈঠকে বসে।

সালিসে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাতবর বাবলু কুমার, গ্রামপ্রধান তাজেম উদ্দিন মোল্লা, টিপু মোল্লা, কাজল, বোরহানের শ্বশুর আকতার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি বিস্তারিত শুনানির পর বোরহানকে সাতটি জুতার বাড়ি দিয়েই বিচার শেষ করা হয়।

তবে সালিসে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি কালের কণ্ঠকে জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য অভিযুক্ত বোরহানের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও ওই গৃহবধূকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। পুরো টাকাই মাতবর ভাগাভাগি করে নিজেদের পকেটে ভরেছে। 

জানতে চাইলে গৃহবধূর স্বামী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রামের মাতবররা বসে সব কিছু শুনে বোরহানকে জুতাপেটা করেছে। তবে আমরা কোনো টাকা-পয়সা পাইনি।’

সালিসে উপস্থিত মাতবর মোহাম্মদ কাজল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তবে ধর্ষণচেষ্টার বিচার সালিসে করা যায় কি না এবং টাকা ভাগাভাগির বিষয়ে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না। তা ছাড়া ভিকটিমের পরিবারও কিছু জানায়নি। তবে আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা