kalerkantho

চৌগাছায় ডেঙ্গু রোগী হালিমার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও ও পৌর মেয়র

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

২২ আগস্ট, ২০১৯ ০১:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চৌগাছায় ডেঙ্গু রোগী হালিমার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও ও পৌর মেয়র

হালিমা খাতুন

যশোরের চৌগাছায় ডেঙ্গু রোগী হালিমা খাতুন (১৪) কে টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে না পেরে বাড়িতে ফেরত আনা হয়েছে। বাক প্রতিবন্ধী বাবার কাছে টাকা না থাকায় বাড়িতে ফেরত আনতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

এ খবর জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর মেয়র। তাৎক্ষণিকভাবে ওই রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে রোগীকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য হালিমাকে দ্রুত ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার পৌর সদরের ডাকবাংলা পাড়ার বাসিন্দা বাক প্রতিবন্ধী হাসু রহমানের মেয়ে ছারা বালিকা বিদ্যারয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী হালিমা খাতুন (১৪) গত ১৬ আগস্ট শুক্রবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। এদিন সকালে উপজেলার ডিভাইন হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করলে তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এ অবস্থায় দরিদ্র বাবা মেয়েকে চৌগাছা ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু হালিমার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে।

হালিমার চাচা মমিনুর রহমান জানান, যশোর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পর সেখানে রোগীর প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে জায়গা হয়নি। কোনোমতে রাতটি হাসপাতালের বারান্দায় রাখি। তারপর শনিবার আমরা কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু হালিমার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এই হাসপাতালের ডাক্তাররা হালিমাকে ঢাকাতে রেফার করে। 

তিনি বলেন, ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসার করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে আমরা হালিমাকে মঙ্গলবার বাড়িতে ফেরত এনেছি। তিনি আরো বলেন, আমার ভাই বাক প্রতিবন্ধী। খুব দরিদ্র মানুষ। আমাদের পক্ষে ঢাকায় নিয়ে যেয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব না। তাই বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফেরত আনতে হয়েছে। 

এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হালিমার বাড়িতে ফেরত আসার খবর জানতে পেরে বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ওই পরিবারে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ও পৌর মেয়র নূর উদ্দীন আল মামুন হিমেল। সেখানে তাঁরা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে ওই রোগীকে উদ্ধার করে দ্রুত চৌগাছা হাপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দ্রুততার সঙ্গে প্লাটিলেট কাউন্ট করা হলে দেখা যায় হালিমার প্লাটিলেক ৬০ হাজার। 

এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিমানের টিকিট পাওয়া না যাওয়ায় বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকা পিজি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পৌর মেয়র নূর উদ্দীন আল মামুন হিমেল জানান, খবর পেয়ে নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আমি ওই পরিবারে যায়। সেখান থেকে দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধার করি। রাতেই আমরা চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, টাকার অভাবে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা হবে না এটা দুঃখজনক। আমরা মেয়েটির জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করেছি। ইতিমধ্যে ঢাকায় আমরা কথা বলেছি। আপনাদের মাধ্যমে মেয়েটির জন্য দোয়া চাই। সে যেন সুস্থ হয়ে ওঠে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা