kalerkantho

ঈশ্বরদীতে ছাত্রীর শীলতাহানির ঘটনায়

প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

২১ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধ

পাবনার ঈশ্বরদীস্থ আলহাজ টেক্সটাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর দায়ের করা শ্লীলতাহানি মামলার আসামি প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হককে (৬৩) স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস বর্জন, বিদ্যালয় সংলগ্ন কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী (আইকে রোড) মহাসড়কে কলাগাছ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী রাস্তা অবরোধ করে রাখায় রাস্তার দুই পাশে চলাচলকারী ছোট বড় কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে। পরে থানা পুলিশ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পক্ষ থেকে একাডেমিক সুপার ভাইজার, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য গিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের সাময়িক বহিষ্কার প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর ছাত্রছাত্রীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যায়।

আজ বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এইসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

সড়ক অবরোধকারী ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা যায়, আলহাজ টেক্সটাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ‘খ’ শাখার এক ছাত্রীকে গত ২৫ মেসহ কয়েক দফায় অশ্লীল কথা বলে, নানা রকম কুপ্রস্তাব ও শরীর স্পর্শ করে শ্লীলতাহানি করেন প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক। বিষয়টি ওই ছাত্রী তার পরিবারকে জানিয়ে দেন। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক স্থানীয় কিছু ক্যাডারদের মাধ্যমে মিমাংসা করে নেওয়ার জন্য ওই ছাত্রীর পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন। পরে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান। ফলে ২৮ মে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে থানায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করেন। ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের অবিরাম আন্দোলনের ফলে মামলায় দায়ের দীর্ঘ ১৯ দিন পর প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হককে ঢাকার শাহবাগ থানা এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেন। এরপর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষক ওই মামলায় জামিনে এসে গত ২০ আগস্ট পরিচালনা কমিটির নির্দেশ ছাড়াই গোপনে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। সকালে ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি জানতে পেরে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করে বিভিন্ন ধরণের শ্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায় তারা কলা গাছ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। তাদের সঙ্গে অভিভাবকরা যোগ দেন।

তিনি আরো জানান, অবস্থা বেগতিক দেখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি অবগত করা হয়। পরে সবাই মিলে পরিস্থিতি শান্ত করে ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরত আনা হয়।

উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার আরিফুল ইসলাম জানান, ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় অবরোধ করে প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে অবস্থানের খবর পেয়ে থানা পুলিশ নিয়ে ঘটনা স্থলে যাওয়া হয়। প্রধান শিক্ষকের অস্থায়ী বহিষ্কার প্রত্যাহার করা না হওয়া পর্যন্ত আর বিদ্যালয়ে আসতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের শ্রেণিকক্ষে ফেরত পাঠানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা