kalerkantho

রাজীবপুরে শিশু ধর্ষণ: চার দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম    

২১ আগস্ট, ২০১৯ ১১:১২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজীবপুরে শিশু ধর্ষণ: চার দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ!

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার চার দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ। অভিযুক্ত ধর্ষণকারী সাখাওয়াত হোসেন (৪০) সরকারি দলের স্থানীয় নেতা হওয়ার কারণে তিনি প্রভাব খাটিয়ে নির্যাতিত পরিবারকে মামলা করতে দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

বিষয়টির আপোষ মীমাংসায় পরিবারকে বাধ্য করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়।

গত শনিবার (১৭ আগস্ট) শিশুটিকে ধর্ষণের পর আজ বুধবারও থানায় কোনা মামলা হয়নি। শিশু ধর্ষণের মতো একটি জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর অভিযুক্ত লম্পট প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর ফলে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা সহ্য করতে না পেরে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে গতকাল মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) মারা যান দাদা জহুরুল হক (৬৫)। পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন, শিশুটির ওপর নির্যাতনের ঘটনা শোনার পর থেকে দাদা জহুরুল হক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

শিশুটির বাবা উপজেলার পাটাধোয়া পাড়া গ্রামের দিনমজুর বলেন, 'আমরা গরিব মানুষ। আমার অবুঝ মেয়েডার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হইল। থানায় মামলা করতে যামু দেইখ্যা আমার পরিবারের কাউকে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। মামলা করলে গ্রাম থিকা বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এ নিয়া বিপদের মদ্দে আছি।'

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন পাটাধোয়া পাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে দিয়ে ঘটনার মীমাংসার জন্য চেষ্টা করছেন। হারুন-অর রশীদ ওই ব্যক্তি নির্যাতিত পরিবারকে অর্থের লোভ দেখিয়ে চুপ থাকার জন্য হুমকি দিয়েছেন। পরিবারটি যাতে থানায় যেতে না পারে সে জন্য পাহারা বসিয়েছেন। নির্যাতিত পরিবার ও গ্রামবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে এসব অভিযোগ।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'আমি কোনো কথা বলব না। আপনাদের কিছু জানার থাকলে হারুন ভাইয়ের কাছে যান। উনি মীমাংসার জন্য যা দরকার তা করছেন।' তবে হারুন-অর রশীদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমি মীমাংসার কোনো উদ্যোগ নিইনি। তাছাড়া শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনার স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা যায় না।'

ঢষমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহানী বলেন, 'ঘটনা  জানার পর আমি নির্যাতিত শিশুটির বাড়িতে গিয়েছিলাম এবং তাদেরকে অভিযোগ নিয়ে থানায় আসতে বলেছি। কিন্তু তারা অভিযোগ নিয়ে থানায় আসছেন না।'  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা