kalerkantho

ট্রেনের বগিতে মাদরাসাছাত্রীর লাশ

পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় এনে ধর্ষণ, কমলাপুরে পরিত্যক্ত বগিতে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ও পঞ্চগড় প্রতিনিধি    

২১ আগস্ট, ২০১৯ ১০:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় এনে ধর্ষণ, কমলাপুরে পরিত্যক্ত বগিতে হত্যা

পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় এনে ধর্ষণের পর কমলাপুরে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগিতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে মাদরাসাছাত্রী আসমা আক্তারকে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধের আলামত মিলেছে। পুলিশও পেয়েছে একই ধরনের আলামত। এ ঘটনায় আসমার কথিত প্রেমিক মারুফ হাসান বাধনকে আসামি করে ঢাকা রেলওয়ে থানায় (কমলাপুর) মামলা করেছে নিহতের স্বজনরা। বাধনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আসমার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের জন্য পঞ্চগড়ে গ্রামের বাড়ি নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘আসমাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। তাকে ধর্ষণের আলামতও পেয়েছি। শরীরে নির্যাতনের চিহ্নও পাওয়া গেছে। ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে প্যাথলজিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি রুশো বণিক বলেন, আসমাকে ধর্ষণের বেশ কিছু আলামত পাওয়া গেছে। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের সময় তার গলায় ওড়না পেঁচানো ও গিঁট দেওয়া ছিল। বাধনকে এই মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে।

ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী আকবর সুরাতহাল প্রতিবেদনে আসমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানান।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় কমলাপুর স্টেশনের বলাকা কমিউটার ট্রেনের পরিত্যক্ত বগির বাথরুম থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো তরুণীর (১৭) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ব্যাগে থাকা একটি মোবাইল ফোন নম্বরের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

আসমা পঞ্চগড় জেলা সদরের কনপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় মেয়ে। সে স্থানীয় খানবাহাদুর মোখলেছুর রহমান আলিম মাদরাসা থেকে এবার দাখিল পাস করেছে। তার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় সোমবার তার চাচা রাজু ইসলাম বাদী হয়ে আসমার বন্ধু মারুফ হাসান বাধনকে প্রধান আসামি করে কমলাপুর রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন। আসমার পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, আসমার সঙ্গে তার একসময়ের সহপাঠী পাশের সীতাগ্রাম এলাকার টায়ার ভুট্টুর ছেলে বাধনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। খানবাহাদুর মোখলেছুর রহমান আলিম মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় বলে জানা যায়। পরে বাধন অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। সে ঠাকুরগাঁও খোসবাজার এলাকার একটি মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করে পঞ্চগড় বিএম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। দুই মাস আগে তাদের সম্পর্কের কথা জেনে আসমার বাবা আব্দুর রাজ্জাক মেয়ের মোবাইল ফোনের দুটি সিম নিয়ে নেন এবং বাধনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করে দেন। গত রবিবার সকাল ১০টায় দুজন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন ধারণা করছে, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস কিংবা একতা এক্সপ্রেসে করে বাঁধনের সঙ্গে আসমা ঢাকায় কমলাপুর রেলস্টেশন গিয়েছিল। আসমা সঙ্গে বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিজের জন্ম নিবন্ধনের কাগজ নিয়ে যাওয়ায় মনে করা হচ্ছে তারা পালিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছিল।

আসমার বাবা রাজ্জাক বলেন, ‘আমি দুই মাস আগে তাদের প্রেমের কথা জেনে যাই। এরপর আসমার মোবাইলের সিম কার্ড দুটি নিয়ে নিই এবং তার সাথে যোগাযোগ না করার জন্য সতর্ক করে দিই। পরে বাধন আমার মেয়েকে সিম কার্ড কিনে দেয় এবং তারা নিয়মিত যোগাযোগ করত। এটা আমি জানতাম না। রোববার বাধনের ফোন পেয়ে আসমা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’

মেয়ের চাচা ও মামলার বাদী রাজু ইসলাম গতকাল বিকেলে মোবাইল ফোনে জানান, বিকেল সাড়ে ৩টায় ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছি। আসমার প্রতিবেশী স্কুলছাত্রী মনসুরা আক্তার বলেন, ‘আসমা বাধনের সাথে তার সম্পর্কের কথা আমাকে বলেছে। সে বলেছে, বিয়ে করলে বাধনকেই করবে।’

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘটেছে। নিয়ম অনুযায়ী সেখানকার রেল পুলিশ মামলা গ্রহণ এবং তদন্ত করছে।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা