kalerkantho

চট্টগ্রামে আ. লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম চার সংগঠনের কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ

নগর ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারাও জানেন না কবে সম্মেলন, কবে কমিটি

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২১ আগস্ট, ২০১৯ ০২:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামে আ. লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম চার সংগঠনের কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ

জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনসহ দলকে ঢেলে সাজাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। আর ১১ দিন পরই শুরু হচ্ছে তৃণমূল আওয়ামী লীগের ইউনিট ও ওয়ার্ড সম্মেলন। ক্ষমতাসীন দলটি তৃণমূল গোছাতে এরই মধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠনগুলোর দিকে কারো নজর নেই। নগর ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি মেয়াদ হারিয়েছে দীর্ঘদিন। অথচ এসব সংগঠনের সম্মেলন কখন হবে তা খোদ নেতারাও জানেন না। তাঁরা তাকিয়ে আছেন নগর আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের দিকে। 

ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠনগুলোর চট্টগ্রাম নগরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা যখন চাইবেন তখনই তাঁরা সম্মেলন আয়োজনে প্রস্তুত। তবে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সংগঠনগুলোর সম্মেলনের কোনো উদ্যোগ নেই। নগর ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের দাবিতে ছাত্রলীগের একাংশ বেশ কিছুদিন ধরে রাজপথে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। অন্য তিন সহযোগী সংগঠন সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার উদ্যোগ না নেওয়ায় নগর ও বিভিন্ন ইউনিট নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ-হতাশা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ১১টি ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি রয়েছে।

সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানান, চট্টগ্রাম মহানগরে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর অবস্থা বেহাল। এর মধ্যে নগর ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ পেরিয়েছে প্রায় দুই বছর তিন মাস আগে। যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ তিন মাসের হলেও তা পেরিয়ে এই কমিটি আরো প্রায় ছয় বছর হতে চলেছে। নগর শ্রমিক লীগের দুই বছরের কমিটি ১৫ বছর পার করছে। সেই সঙ্গে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির মেয়াদ পেরিয়ে এক যুগ পূর্ণ হতে চলেছে।

এসব সংগঠনের সম্মেলন হবে, নাকি কেন্দ্র থেকে আহ্বায়ক কিংবা পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হবে তা স্থানীয় নেতারা জানাতে পারেননি। তাঁদের অভিন্ন বক্তব্য, আওয়ামী লীগ ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা এখনো সম্মেলন করার জন্য কোনো সবুজ সংকেত দেননি। তাঁরা যখনই সম্মেলন করতে বলবেন তখনই করা হবে।

নাম প্রকাশ না করে বিভিন্ন নেতা জানান, নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ায় তৃণমূলে স্থবিরতা বিরাজ করছে। আবার কমিটির কোনো পদে না থাকলেও অনেকে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমিক লীগের নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব বিস্তার করছে। অনেকটাই কেন্দ্রীয় কর্মসূচিনির্ভর হয়ে পড়ছে নগরের এই সংগঠনগুলো।

নগর ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অসিউর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০১৪ সালের জুন মাসে কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির মেয়াদ অনেক আগে শেষ হলেও সম্মেলন কিংবা নতুন কমিটি গঠনের কোনো উদ্যোগ নেই। বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ ২৯১ সদস্যের কমিটির বেশির ভাগের ছাত্রত্ব নেই এবং অন্তত ৭০ জন বিবাহিত। কলেজগুলোতেও নিয়মিত কমিটি নেই।

একই কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ‘আমরাও চাই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসুক। কেন্দ্র থেকে যখনই নির্দেশনা দেওয়া হবে সে অনুযায়ী সম্মেলন আয়োজনে আমরা প্রস্তুত।’

মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘আমরা সম্মেলন করতে প্রস্তুত। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকেও অবহিত করেছি। যখন কেন্দ্র থেকে বলা হবে আমরা সম্মেলন করতে পারব।’

মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি বখতেয়ার উদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক এটলী বলেন, ‘সম্মেলনের জন্য কেউ উদ্যোগ নিচ্ছে না। সংগঠনের কেন্দ্রীয় এবং এখানকার (আওয়ামী লীগ) নেতারা যখন চাইবেন তখনই সম্মেলন করা হবে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কে বি এম শাহাজাহান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্মেলন করে নগর কমিটির সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বিভিন্ন কারণে তা হয়নি। সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি ও নতুন নেতৃত্ব আসুক তা আমরাও চাই। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্মেলন করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা