kalerkantho

প্রেমের টানে বন্ধুর সাথে ঘর ছেড়ে লাশ হলো আসমা!

পঞ্চগড় প্রতিনিধি    

২০ আগস্ট, ২০১৯ ২২:২১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রেমের টানে বন্ধুর সাথে ঘর ছেড়ে লাশ হলো আসমা!

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের একটি পরিত্যক্ত বগি থেকে সোমবার আসমা খাতুন (১৭) নামে পঞ্চগড়ের এক মাদরাসাছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আসমা পঞ্চগড় সদরের কনপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় মেয়ে।

স্থানীয় খানবাহাদুর মোখলেছুর রহমান আলিম মাদরাসা থেকে এবার দাখিল পাস করেছে সে। এরপর পরিবারের আর্থিক অনটনে তাকে আর আলিমে ভর্তি করা হয়নি। তার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় সোমবার আসমার চাচা রাজু ইসলাম বাদী হয়ে আসমার বন্ধু মারুফ হাসান বাঁধনকে প্রধান আসামি করে কমলাপুর রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে আসমার লাশ নিয়ে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হয় তার পরিবার।

আসমার পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, আসমার সাথে তার এক সময়ের সহপাঠী সীতাগ্রাম এলাকার টায়ার ভুট্টুর ছেলে মারুফ হাসান বাঁধনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। খানবাহাদুর মোখলেছুর রহমান আলিম মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে তারা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে বলে জানা যায়। পরে বাঁধন অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। বাঁধন ঠাকুরগাঁও খোসবাজার এলাকার একটি মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করে পঞ্চগড় বিএম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। দুই মাস আগে তাদের সম্পর্ক আসমার বাবা আব্দুর রাজ্জাক জেনে তিনি তার মেয়ের মোবাইলের দুটি সিম নিয়ে নেন এবং বাঁধনের সাথে যোগাযোগ করতে নিষেধ করে দেন। তারপরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছিল। গত রবিবার সকাল ১০টায় দুই জন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের পাওয়া যাচ্ছিল না। সোমবার সকালে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনের বলাকা কমিউটার ট্রেনের একটি পরিত্যক্ত বগি থেকে আসমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

আসমার কাছে তার বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিজের জন্ম নিবন্ধনের কার্ড খুঁজে পায় পুলিশ। তা দেখে পুলিশ তার পরিবারকে খবর দেয়। পরিবারের লোকজন ধারণা করছেন, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস কিংবা একতা এক্সপ্রেসে করে পঞ্চগড় থেকে বাঁধনের সাথে আসমা ঢাকা গিয়েছিল। সাথে বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিজের জন্ম নিবন্ধনের কাগজ নিয়ে যাওয়ায় মনে করা হচ্ছে তারা পালিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছিল। তারপর কি হয়েছে সেটিই এখন রহস্য। এদিকে আসমার বন্ধু বাঁধন পলাতক রয়েছে। আসমার পরিবার ও স্থানীয়রা এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে বাঁধনকে গ্রেপ্তার করাসহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। 

আসমার বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার মেয়ের সাথে বাঁধনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমি দুই মাস আগে তা জানতে পারি। এরপর আসমার মোবাইলের সিম দুটি নিয়ে যাই এবং তার সাথে যোগাযোগ না করার জন্য সতর্ক করে দেই। পরে বাঁধন গোপনে আমার মেয়েকে সিম কিনে দেয় এবং তারা নিয়মিত যোগাযোগ করতো। এটা আমি জানতাম না। রবিবার বাঁধন আসমাকে ফোন করার পর আসমা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরদিন কমলাপুর থেকে পুলিশ আমাকে জানায় আমার মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে। আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের সাথে বাঁধন জড়িত। তাকে গ্রেপ্তার করা হলেই সব রহস্য জানা যাবে।

আসমার মা শেফালী বেগম বলেন, আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম। বাড়ি ফিরে দেখি আসমা নেই। তারপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি পাইনি। সকালে শুনি ঢাকায় আমার মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে।

মেয়ের চাচা ও মামলার বাদী রাজু ইসলাম মোবাইলে জানান, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ আমাদের জানিয়েছে। বাঁধনকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা করেছি।

আসমার প্রতিবেশি স্কুল ছাত্রী মনসুরা আক্তার বলেন, আসমা বাঁধনের সাথে তার সম্পর্কের কথা আমাকে বলেছে। সে বলেছে বিয়ে করলে বাঁধনকেই করবে। 

পঞ্চগড় ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান শাবু বলেন, এলাকার অনেকেই জানে আসমার সাথে বাঁধনের সম্পর্ক আছে। সেই সাথে দুজনই একই সাথে বাড়ি থেকে উধাও। পরদিন লাশ পাওয়া গেল আসমার। সুতরাং বাঁধনকে গ্রেপ্তার করে জিঞ্জাসাবাদ করলেই ঘটনার মূল রহস্য জানা যাবে।

মারুফ হাসান বাঁধনের মা বিলকিস বেগম বলেন, রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় বাঁধন। পরদিন সকালে এ ঘটনা জানতে পারি। আমার ছেলেছে ফাঁসানোর জন্য এমনটা বলা হচ্ছে। আমার ছেলে এখন তার নানার বাড়িতে আছে। তবে তার ছেলের সাথে কথা বলিয়ে দিতে বললে তিনি অসংলগ্ন কথা বার্তা বলতে শুরু করেন। 

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘটেছে। নিয়ম অনুযায়ী সেখানকার রেল পুলিশ মামলা গ্রহণ এবং তদন্ত করছেন। যেহেতু নিহতের বাড়ি পঞ্চগড়ে, এজন্য তদন্তের সময় আমাদের সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে। আমরা ছায়া তদন্ত করছি এবং তদন্ত কর্মকর্তাকে সহায়তা করছি। এই মুহুর্তে তদন্তের স্বার্থে আমরা কিছু বলতে চাচ্ছি না। পরবর্তীতে আমরা এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত তার প্রকাশ করতে পারব। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা