kalerkantho

'পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে মিলনকে হত্যা করে তার বন্ধুরা'

নাটোর প্রতিনিধি   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ১৬:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে মিলনকে হত্যা করে তার বন্ধুরা'

নাটোরে পরিত্যক্ত সরকারি কোয়াটারে মিলন হোসেন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করে।

পুলিশ জানায়, মিলন হোসেনের অ্যাকাউন্টে আউট সোর্সিং-এর মাধ্যমে উপার্জিত টাকা না পেয়ে বিরোধের জের ধরে তার বন্ধু নাটোর শহরের বড়গাছা এলাকার খোকন চন্দ্র শীলের ছেলে সাহস শীল ও তার মামাতো ভাই কুষ্টিয়ার মীরপুর থানার চিথলিয়া গ্রামের শ্যামল কুমার বিশ্বাসের ছেলে পার্থ বিশ্বাস তাকে নৃসংসভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার ৯ দিন পর এই রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ।

নিহত মিলন হোসেন সদর উপজেলার সিঙ্গারদহ গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃতরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে মিলন হোসেনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নাটোরের এসপি লিটন কুমার সাহা জানান, মিলন হোসেনের অ্যাকাউন্টে আউট সোর্সিং-এর মাধ্যমে উপার্জিত টাকা না পেয়ে সাহস শীল তার বন্ধু মিলন হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সে পার্থ বিশ্বাসকে ডেকে আনে। এরপর গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় মোবাইলে তারা মিলনকে আলাইপুর এলাকার পরিত্যক্ত একটি কোয়াটারে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। পুলিশ পরদিন অজ্ঞাত হিসেবে মিলনের লাশ উদ্ধার করে। পরে পার্থ কুষ্টিয়া ফিরে মিলনের মোবাইল সিম তার মায়ের মোবাইলে প্রবেশ করায় এবং ফোনে মিলনের কাকা কাজলের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

অপরদিকে মিলনের অপর একটি মোবাইল নিয়ে সাহস বগুড়ায় চলে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ থেকে পার্থকে আটক করে এবং তার স্বীকোরাক্তির ভিত্তিতে বগুড়া থেকে সাহসকে গ্রেপ্তার করে নাটোরে নিয়ে আসে। তাদের সোমবার আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। আদালত তাদের স্বীকারোক্তি গ্রহণ শেষে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট রাত ৮ টার দিকে শহরের আলাইপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত সরকারি কোয়াটার থেকে পুলিশ অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই জোড়া স্যান্ডেল, একটি লাঠি ও দড়ি উদ্ধার করে। অপরদিকে ঘটনার তিনদিন পর পত্রিকায় নিউজ দেখে মিলনের লাশ শনাক্ত করে তার পরিবার। এরপর থেকে ঘটনার তদন্তে পুলিশ মাঠে নামে। পরে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে এই হত্যা রহস্য উদঘাটন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা