kalerkantho

দুর্বৃত্তদের হামলায় অসহায় পরিবারের ভিটে মাটি ছাড়া সর্বস্ব লুট!

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ১৪:২৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুর্বৃত্তদের হামলায় অসহায় পরিবারের ভিটে মাটি ছাড়া সর্বস্ব লুট!

কুমিল্লার চান্দিনায় একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তের হামলা ও লুটপাটের কারণে বাড়ি ছাড়া এক অসহায় পরিবার। বৃদ্ধ, অন্ত:সত্ত্বা নারী ও শিশুদের নিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে পরিবারটি। ভিটের মাটি ছাড়া পরিবারটির সর্বস্ব লুটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তারা লুট করেছে আসবাবপত্রসহ ৩টি বসতঘর, ২টি রান্না ঘর। এমনকি গ্যাসের চুলা, টিউবওয়েল পর্যন্তও লুটে নেয় তারা। মাটির ভিটাগুলো ছাড়া অবকাঠামো কিছু না থাকায় অবস্থাদৃষ্টে মনেই হবে না এখানে ইতিপূর্বে কারো বসতি ছিলো! এমতাবস্থায় পরিবারটির সাহায্যে এগিয়ে আসছে না কেউ। প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ওই পরিবারটি। ছোট-বড় ৮ সদস্যের পরিবারটি বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। একটি হত্যাকাণ্ডের জের ধরে এ ঘটনাটি ঘটেছে চান্দিনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড ছায়কোট এলাকায় আবদুর রহমান ড্রাইভার (৭৫) এর বাড়িতে। 

সরেজমিনে ঘটনাস্থল গেলে ভুক্তভোগী অসহায় বৃদ্ধ আব্দুর রহমান (৭৫) জানান, আমার ছোট ছেলে জানে আলম এর সাথে পাশ্ববর্তী বাড়ির ফারুক নামে এক ব্যক্তির সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ৩১ জুন তাদের মধ্যে 
ঝগড়া-বিবাদের এক পর্যায়ে আমার ছেলের ছুড়িকাঘাতে ফারুকের মৃত্যু ঘটে। ওই দিন পুলিশ জানে আলমকে গ্রেপ্তার করে। আমার অপর ছেলে মোর্সেদ আলম এ ঘটনার সাথে জড়িত না থাকা সত্বেও বাদী পক্ষ মোর্সেদকে আসামি করায় তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আদালতে মামলা চলছে। এ ঘটনার সপ্তাহ খানেক পর নিহত ফারুকের মামা জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রায় ১০-১২ জন লোক এসে আমাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তাদের আঘাতে আমার মাথায় রক্তক্ষরণ হয়। তাদের একের পর এক আঘাতে মোর্সেদের অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রীকে সহ পরিবারের সকলকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হই। আমাদের বাড়ি থেকে বের করে তারা লুটে নেয় আমার সকল সহায় সম্বল। ৩টি বসতঘর, ২টি রান্না ঘর, ঘরের আসবাবপত্র, গ্যাসের রাইজার, টিউওয়েলসহ সব কিছু।

তিনি আরো জানান, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর আমি থানায় এসে পুলিশকে অবহিত করি। কিন্তু তাতেও কোনো আইনি সহযোগিতা পাইনি। এখন আমি অন্ত:সত্ত্বা পুত্রবধূসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানুষের বাড়ি-বাড়ি ঘুরে কোন রকমে বেঁচে আছি।

অসহায় ওই বৃদ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তাতে ফাঁসি হলেও আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু আমার অন্যান্য ছেলে ও তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আমি কিভাবে বাঁচবো। আমি নিজেও চলতে ফিরতে পারি না। খুবই সমস্যায় আছি। আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপারে পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস ছালাম বলেন, ওই ঘটনায় আমিও ব্যথিত। এই বিষয়টি সমাধানের জন্য আমি নিজেও থানায় গিয়েছিলাম। যে হত্যা করেছে সে গ্রেপ্তার হয়েছে। তার অপরাধের কারণে পুরো পরিবারের ওপর হামলা ও লুটের ঘটনার নিন্দা জানাই। যারা লুট করেছে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

হত্যা মামলার তদন্ত অফিসার চান্দিনা থানার এসআই হারুন-অর-রশিদ জানান, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছি। কারা লুটপাট করেছে তা কেউ সঠিকভাবে বলেনি। তবে বাদী পক্ষের লোকজন জড়িত আছে এটা ধারণা করছি। আমি এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডিউটিতে আছি। ফিরে এসেই এ ব্যাপারে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল ফয়সল জানান, ‘লুটপাটের সময় ভুক্তভোগীরা কেউ এ বিষয়ে আমাদের অবহিত করেনি। পরেও কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে জনৈক এক ব্যক্তির নিকট ঘটনা শুনে আমি পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। এখন ভুক্তভোগীরা মামলা দায়ের করলে আইনানুগ বব্যস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা