kalerkantho

পরিবারে মেলেনি আশ্রয় : ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুসহ মা সেফহোমে

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ১৩:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিবারে মেলেনি আশ্রয় : ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুসহ মা সেফহোমে

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ধর্ষণের পর জন্ম নেওয়া কোলের সন্তানসহ তার কুমারী মাকে মহিলা ও শিশু কিশোরী নিরাপদ আবাসনে (সেফহোম) পাঠানো হয়েছে। আদালতের আদেশে সোমবার সকাল ৯টার দিকে ধুনট থানা থেকে মা ও শিশুকে রাজশাহী সেফহোমে পাঠানো হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছোট চিকাশি গ্রামের চপল ইসলাম প্রায় ১৭ বছর আগে একই এলাকার কৈয়াগাড়ি গ্রামের দেলোয়ারা খাতুনকে বিয়ে করে। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। প্রায় ৩ বছর আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তালাকপ্রাপ্ত হয়ে দেলোয়ারা খাতুন কিশোরী মেয়েকে কৈয়াগাড়ি গ্রামে বাবার বাড়িতে রেখে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি নেয়। এ অবস্থায় মেয়েটি কৈয়াগাড়ি গ্রামে তার নানা রশিদ মন্ডলের বাড়ি থেকে স্থানীয় বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। বিয়ের প্রলোভনে একই এলাকার রঘুনাথপুর গ্রামের বকুল হোসেন মেয়েটির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল বকুল হোসেন মেয়েটির ঘরে ঢুকে ধর্ষণের সময় ধরে ফেলে নানা। ঘটনাটি প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে একই সময় নানা রশিদ মন্ডলও নাতনিকে ধর্ষণ করে। 

ধর্ষণে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হলে তার বাবা বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় মেয়েটির নানা রশিদ মন্ডল ও প্রেমিক বকুল হোসেনকে আসামি করা হয়। এ অবস্থায় ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী ১ জানুয়ারি বাবার বাড়িতে পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। মামলার আসামি বকুল হোসেন ও রশিদ মন্ডল বর্তমানে বগুড়া কারাগারে আটক রয়েছে। 

এদিকে সন্তান প্রসবের পর লোকলজ্জায় বাড়ি ছেড়ে মেয়েটি তার দাদির সাথে উপজেলার সোনাহাটা বাজার এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকত। এ অবস্থায় ১৫ আগস্ট দুপুরের দিকে কোলের সন্তানসহ মাকে সোনাহাটা বাসা থেকে নিয়ে যায় দেলোয়ারা খাতুন। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে সাবেক স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। পুলিশ কোলের সন্তানসহ মেয়েটিকে শনিবার তার খালার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে রবিবার বিকেলে বগুড়া আদালতে পাঠায়।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, আদালতের আদেশে কোলের সন্তানসহ ভিকটিমকে রাজশাহী মহিলা ও শিশু কিশোরী নিরাপদ আবাসনে (সেফহোম) পাঠানো হয়েছে। কোলের সন্তানসহ ভিকটিম তার মা নাকি বাবার নিকট থাকবেন তা ২৮ আগস্ট আদালত নির্ধারণ করবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা