kalerkantho

জলঢাকার খরস্রোতা আওলিয়াখানা নদীকে নিরাকার করছে প্রভাবশালীরা

জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি    

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ১৩:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলঢাকার খরস্রোতা আওলিয়াখানা নদীকে নিরাকার করছে প্রভাবশালীরা

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে এক সময়ের খরস্রোতা আওলিয়াখানা নদী। নদীটি দিন দিন নিজেদের দখলে  নিচ্ছে উপজেলা সদরের পৌরসভা এলাকার প্রভাবশালীরা। ফলে পৌর এলাকার মাঝে এক সময়ের প্রবহমান নদীটি এখন প্রায় নিরাকার। পানির ধারা চলমান না থাকায় বর্ষাকালে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। আর সঠিক সময়ে পানি নেমে যেতে না পারায় প্রতি বছর শত শত হেক্টরের জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলাটির ওপর দিয়ে সাতটি নদী বয়ে গেছে। নদীগুলো হলো-তিস্তা নদী, বুড়ি তিস্তা নদী, ধুমনদী, দেওনাই নদী, চাড়ালকাটা নদী, ধাইজান নদী ও আউলিয়াখানা নদী।

দাপ্তরিক তথ্যে এই সাতটি নদী হলেও স্থানীয়দের নিকট হতে আরও তিনটি নদীর নাম উঠে এসেছে। সেগুলো হলো- গুপ্তবাসী ,বুল্লাই ও সুঁই নদী। এর মধ্যে চলতি বছর সুঁই ও ধাইজান নদীর খনন বা পলি অপসারণ কাজ চলমান।

এদিকে এলাকাবাসীর তথ্যে জানা যায়, জলঢাকা উপজেলা পরিষদ আওলিয়াখানা নদীর তীরে অবস্থিত। নদীটির উৎপত্তিস্থল গোলনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড তালুক গোলনা এলাকার দলবাড়ী বিল। ১৯৯২ সালের ১ মার্চ রবিবার সন্ধ্যায় ২৬ জনের সলিল সমাধি ঘটেছিল এই নদীতে। একযুগ আগেও জেলেসহ স্থানীয়রা নানা জাতের মাছ স্বীকার করত। এখন আর সেই দিনগুলি নাই। নদীটি জলঢাকা পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গাচড়া, জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার ত্রি-সীমানায় ঘাঘট নদীর উৎপত্তিস্থলে পতিত হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে এখনও নদীটির আকার-চিহ্ন বা অস্তিত্ব বিরাজ করলেও বর্তমানে জলঢাকা পৌর এলাকায় নদীটি নিরাকার। কারো নজরদারি না থাকায় প্রভাবশালীরা মাটি ভরাট করে দিন দিন আউলিয়াখানা নদীকে রুপান্তরিত করছে ফসলি জমিতে।

গোলনা ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডের সুশীল চন্দ্র বলেন, নদীটির ধারা সচল রাখতে স্বাধীনতার পর একবার খনন করা হয়েছিল। ফলে বর্ষাকালেও আমরা জলাবদ্ধতা বুঝতাম না। এখন একটু পানিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। সময় মতো ফসল লাগানো যায় না। অনেক সময় ফসল লাগানোর পর বৃষ্টি নামলে তা নষ্ট হয়ে যায়।

কাঠালী ইউনিয়ন রঙ্গের বাজার এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য রশিদুল ইসলাম ও নন্দলাল রায় বলেন, একটু বৃষ্টিতেই আউলিয়াখানা নদীতে জলাবদ্ধতা হয়। বিভিন্ন ফসলহানীসহ মানুষজনের চলাচলেও বাড়ে দূর্ভোগ। শুনেছি, সরকার সারাদেশে নদী রক্ষা ও উদ্ধারে কাজ করছে। আমরা চাই তারই ধারাবাহিকতায় আউলিয়াখানা নদীটি উদ্ধার ও পুনঃখনন করা হোক।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শাহ মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, ‘সঠিকভাবে পানি না সরায় প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। কোথাও পানি জমে থাকার কারণে আবাদ নষ্ট হচ্ছে। নদীগুলোর ড্রেজিং প্রয়োজন। এতে নদীর প্রবহমান ধারা অব্যাহত থাকবে। আবাদের এলাকাও বাড়বে। আকার-আয়তন ঠিক না থাকার কারণে ভূমিদস্যুরা জমিগুলো তাদের আয়ত্বে নিচ্ছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সুজাউদ্দৌলা বলেন, ‘ নদী ছিল, নাব্যতা হারিয়েছে । এখন ড্রেজিং করার ব্যবস্থা করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। বিষয়টি অবগত হলাম। আমি আমার উর্ধ্বতনকে অবগত করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা