kalerkantho

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ

দলাদলি আর অন্তর্কোন্দলে তৃণমূলে ক্ষোভ হতাশা

জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে নগর ও উত্তর জেলায় প্রস্তুতি থাকলেও পিছিয়ে দক্ষিণ; অধিকাংশ কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০২:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দলাদলি আর অন্তর্কোন্দলে তৃণমূলে ক্ষোভ হতাশা

অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে তৃণমূলে সম্মেলনসহ সংগঠন গোছাতে চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা ইতিমধ্যে নানা প্রস্তুতি নিলেও পিছিয়ে রয়েছে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা নেতাদের পারস্পরিক দূরত্ব ও দলাদলির কারণে দক্ষিণে তৃণমূলের সম্মেলন কখন হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না।

জানা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আওতাধীন আট উপজেলার সাতটিতেই রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। সেই সঙ্গে পাঁচ পৌরসভার মধ্যে চারটির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। আবার এসব সাংগঠনিক কমিটির আওতাধীন ওয়ার্ড, ইউনিয়নেও সম্মেলন কবে হয়েছে তাও অনেকের মনে নেই। দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনে স্থবিরতা বিরাজ করছে। তা ছাড়া দলাদলির কারণে বোয়ালখালী উপজেলা ও পৌরসভায় আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি রয়েছে। 

তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, দক্ষিণের আওতাধীন লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন জেলা ও উপজেলার একাধিক নেতা। এই বিরোধিতার কারণে ওই দুই উপজেলায় নৌকার প্রার্থী পরাজিত হন। লোহাগাড়ায় দলীয় প্রার্থীর অভিযোগ, ‘দলীয় কিছু নেতার পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তাঁর সহধর্মিণীর বিরোধিতার কারণে নৌকা পরাজিত হয়েছে।’

দক্ষিণ জেলার একাধিক নেতা জানান, উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলে দলাদলি বেড়েছে। এতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুতে জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যেও দূরত্ব বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ বাঁশখালীতে গত ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ অংশ নেয়নি।

এসব বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সঙ্গে গতকাল রবিবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান গত শনিবার এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তৃণমূলের সম্মেলনের জন্য আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি। কেন্দ্র থেকে যখন নির্দেশনা দেবে তখনই আমরা সম্মেলন করতে পারব।’ 

বাঁশখালীতে দলীয় অনুষ্ঠানে জেলা সভাপতি অংশ নিলেও সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাঁশখালীতে প্রায় ২৪ বছর আগে সম্মেলন হয়েছে। সেখানে আমাদের অনুমোদিত কোনো কমিটি নেই। কমিটির বর্তমান সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন নেতাকে নিয়ে নানা সময় অশালীন মন্তব্য করেছেন। তাঁদেরকে বারবার সম্মেলন আয়োজনের অনুরোধ করলেও দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করছেন। তাই আমি যাইনি।’ 

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের সুজন গতকাল বলেন, ‘জেলা সভাপতির এলাকা বোয়ালখালীতে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোতেও পাল্টাপাল্টি কমিটি রয়েছে। আরো বিভিন্ন এলাকায় দলাদলির কারণে সংগঠনিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হলেও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। প্রায় কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। আর কখন সম্মেলন হবে তা আমরাও জানি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘জেলার কয়েকজন নেতা তৃণমূলের কথা না শুনে সম্মেলন ছাড়াই বিভিন্ন কমিটি চাপিয়ে দিচ্ছেন। এতে অন্তর্কোন্দল বাড়ছে।’

লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘দক্ষিণের যেসব উপজেলা নির্বাচনে এমপি ও অন্য নেতারা নৌকার বিরোধিতা করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আগামী মাসে কেন্দ্র থেকে কারণ দর্শানোর চিঠি আসছে বলে শুনেছি। উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন নেতার কারণে তৃণমূলে আমরা সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আর জেলা থেকে নির্দেশনা পেলে সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

জানা যায়, সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিল। এরপর ২৪ বছর পার হলেও এখনো সম্মেলন হচ্ছে না। একইভাবে দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন হচ্ছে না বোয়ালখালী, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, সাতকানিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলায়। সম্মেলনের উদ্যোগ নেই পটিয়া ছাড়া অপর পৌরসভাগুলোতেও। এসব সংগঠনের আওতাধীন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের প্রায় কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় তৃণমূলে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। 

এদিকে তৃণমুলের পাশাপাশি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। 

২০১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর মোছলেম উদ্দিন আহমদকে সভাপতি ও মফিজুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্র থেকে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এই কমিটির মেয়াদ পেরিয়ে আরো সাড়ে তিন বছর হয়ে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা