kalerkantho

'ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয় শিক্ষিকাকে'

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

১৮ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:৪৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয় শিক্ষিকাকে'

চাঁদপুরে স্কুলশিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তী খুনের ক্লু উদঘাটন করেছে বলে দাবি পুলিশের। তবে অন্য কোনো বিষয় নয়, নিছক মাদকসেবীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

আজ রবিবার বিকেলে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই তাদের জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানিয়েছে।

এ সময় পিবিআই'র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল দাবি করেন, মাদকাসক্ত দুই যুবক জামাল হোসেন ও আনিছুর রহমান জয়ন্তী চক্রবর্তীকে বাসায় একা পেয়ে প্রথমে ধর্ষণ, পরে গলা কেটে হত্যা করে। তারা দুইজনই ইয়াবা সেবনে আসক্ত ছিল।

তিনি আরো বলেন, ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করে দেবে- শুধু এ কারণেই ওই দুই যুবক জয়ন্তী চক্রবর্তীকে গলা কেটে নির্মমভাবে খুন করে। পিবিআই দাবি করেছে, ঘটনায় জড়িতরা মাদকসেবী। তাই এমন হত্যাকাণ্ড খুব সহজে করতে সক্ষম হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল, জয়ন্তী চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার এবং হত্যার চিত্র উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি জানান, ক্যাবল টিভির লাইন মেরামতের কথা বলে জামাল হোসেন ও আনিছুর রহমান জয়ন্তী চক্রবর্তীর বাসায় প্রবেশ করে। পরে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে প্রথমে জামাল হোসেন এবং পরে আনিছুর রহমান পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ধর্ষিতা ঘটনা প্রকাশ করে দেবে, এমন কথা শোনার পর এই দুইজন ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে। এ সময় তারা ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার জন্য ঘটনাস্থল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে।

এদিকে গত ২১ জুলাই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দুইদিনের মধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে জামাল হোসেন ও আনিছুর রহমান নামে এই দুইজনকে প্রথমে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ আটক করে। পরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় এক মাস ধরে নীবিড়ভাবে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা শেষে রবিবার বিকেলে স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তী হত্যার রহস্য গণমাধ্যমের কাছে উপস্থাপন করে পিবিআই।

চট্টগ্রাম জোনে পিবিআই‘র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল, চাঁদপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শংকর কুমার দাসসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে অভিযুক্তদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা না হলেও গ্রেপ্তার হওয়া জামাল হোসেন ও আনিছুর রহমানের ছবি সরবরাহ করে পিবিআই। বর্তমানে এই দুইজন কারাগারে রয়েছে। তাদের দুইজন ষোলঘর এলাকার আশপাশের বাসিন্দা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা