kalerkantho

ঢাকা-রাঙ্গাবালী নৌ-রুট

ঢাকামুখী লঞ্চযাত্রীদের থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

১৮ আগস্ট, ২০১৯ ১১:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকামুখী লঞ্চযাত্রীদের থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পটুয়াখালীর ঢাকা-রাঙ্গাবালী নৌ-রুটের লঞ্চগুলোতে ঢাকামুখী যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ফলে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ঢাকা-রাঙ্গাবালী নৌ-রুটের যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। পবিত্র ঈদুল আজহাকে পুঁজি করেই এ প্রথা চালু করেছে লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা।
 
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল ১১টায় উপজেলার কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট থেকে একটি দোতলা লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে এবার ঈদের এক সপ্তাহ আগে স্থায়ীভাবে চালু হওয়া রয়েল ক্রুজ ২ নামক একটি লঞ্চ একদিন পরপর দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ছেড়ে যায়। এই রুটের লঞ্চে প্রতিবছর ঈদ মুহূর্ত এলেই বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু করে। ঈদের আগে এবং পরের প্রায় এক সপ্তাহ বা তার অধিক সময় ধরে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়। এবারও ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
 
শনিবার ঈদের পাঁচ দিন হলেও বাড়তি ভাড়া আদায় থামেনি। এদিকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছেন, সারা বছরইতো কম ভাড়া নেওয়া হয়। শুধু ঈদের দু-একদিন সামান্য বেশি ভাড়া নেওয়া হয়। এতে কোনো  সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
 
লঞ্চযাত্রীদের অভিযোগ, ঈদ মুহূর্ত ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে রাঙ্গাবালী-ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চগুলোতে ডেকে ৩০০ টাকা নিলেও এখন ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আগে সিঙ্গেল কেবিন ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা ছিল, এখন ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা। আগে ডাবল কেবিন ১৭০০ থেকে ২০০০ টাকা ছিল, এখন ৩৪০০ থেকে ৪০০০ টাকা। এ ছাড়া ভিআইপি কেবিনগুলোতেও প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে এভাবে লঞ্চগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায় করার ফাঁদে পড়েছে যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়েই তাদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তদারকি নেই। এর ফলে বহাল তবিয়তে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাচ্ছে।
 
রয়েল ক্রুজ ২ নামক লঞ্চে ঢাকা যাওয়া যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, আমি কোড়ালিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাওয়ার জন্য একটি ডাবল কেবিন বুকিং দিই। সেই কেবিনের জন্য ৩৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ অন্য সময় এই কেবিনের ভাড়া ১৭০০-১৮০০ টাকা। এভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা। জাহিদ ৩ লঞ্চের যাত্রী খালিদ হাসান কিরণ বলেন, সর্বোচ্চ এক হাজার টাকার সিঙ্গেল কেবিন এখন এই লঞ্চে ১৭০০ টাকা। আমি অনেক বুঝিয়ে ১৫০০ টাকা দিয়েছি।
 
শনিবার ঈদের পাঁচ দিন দিন হলেও কোড়ালিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রিন্স অব রাসেল ৫ এবং ঈদ উপলক্ষে চলমান ঝান্ডা লঞ্চের কয়েকজন যাত্রী জানান, ঢাকাগামী এই রুটের সবক'টি লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, এই মুহূর্তে অগ্রিম টাকা দিয়েও কেবিন বুকিং করে যাত্রীরা প্রতারিত হচ্ছে। লঞ্চের কিছু লোকজন বেশি টাকা পেলেই বুকিং করা কেবিন অন্যদের বেশি টাকার বিনিময়ে দিয়ে দিচ্ছেন। 
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান এ বিষয়ে জানান, লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা