kalerkantho

চাটমোহরে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়, যাত্রীদের দুর্ভোগ

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাটমোহরে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়, যাত্রীদের দুর্ভোগ

ছবি: কালের কণ্ঠ

চাকরিজীবী, কর্মজীবী মানুষেরা পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থল ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে। সড়ক পথে বাসের টিকিট না পাওয়া ও যানজটের কারণে পাবনা জেলার অধিকাংশ ঢাকাগামী যাত্রী ট্রেনই বেছে নিয়েছেন। নিরাপদ যাত্রায় এখন ঢাকা যেতে এ সকল যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে। একদিকে ট্রেনের আসনসহ টিকিট না পাওয়া, অন্যদিকে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা। একদিকে যেমন বৃষ্টি অন্যদিকে ভ্যাপসা গরমে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা আরো বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

সরেজমিন শনিবার দুপুরে পাবনার চাটমোহর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা অভিমুখী ট্রেন যাত্রীদের পদচারনায় স্টেশন এলাকা মুখরিত। শত শত ট্রেন যাত্রী ট্রেনের আসনসহ টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে স্টেশনে বসে আছে। বাধ্য হয়েই আধিকাংশ ট্রেন যাত্রী আসনবিহীন টিকিট ক্রয় করেছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে একটি ট্রেন আসলেই হুঁমরি খেয়ে পড়ছে ট্রেন যাত্রীরা। প্রচণ্ড ভিড় ট্রেনে উঠতে না পেরে অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরা। বাদ যাচ্ছেন না নারীরাও।

ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ে প্রতিটা ট্রেন অন্তত ২/৩ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করছে। ঢাকা অভিমুখে বিভিন্ন স্টেশনে বিপুল পরিমাণ যাত্রী সমাগম ও যাত্রীদের উঠা নামায় প্রতিটা ট্রেনকে অতিরিক্ত ১৫/২০ মিনিট সময় লেগে যাওয়ায় ট্রেনের এই সিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে বলে চাটমোহর রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে। এ ছাড়াও ঢাকা অভিমুখের ট্রেন লাইন এক লেন হওয়ায় এবং ট্রেনের সংখ্যা একাধিক থাকায় ঘন ঘন ট্রেন ক্রসিং জনিত কারণে এ সিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে বলেও তারা জানান।

চাটমোহর স্টেশনে যাত্রা বিরতি করে এমন ট্রেনগুলো হলো- আন্তঃনগর সুন্দরবন, চিত্রা, ধূমকেতু, সিল্ক সিটি, পদ্মা, দ্রুতযান ও ঈদ স্পেশাল ১টি ট্রেন যাত্রা বিরতি করছে। শুধু চাটমোহর নয়, পাবনা সদর, আটঘরিয়া, নাটোরের বড়াইগ্রামসহ অন্যান্য উপজেলার মানুষও এই চাটমোহর স্টেশন থেকে ট্রেন যোগে ঢাকা যাচ্ছেন।

স্টেশনে অবস্থানকারী ঢাকা গমনেচ্ছু ট্রেন যাত্রী বাবুল হোসেন বলেন, ১০ দিন আগে এই আজকের দিনের দুপুরের চিত্রা ট্রেনের টিকিট স্বজনদের দিয়ে কাটিয়েছি। ট্রেন আসার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। তবুও ট্রেনের কোনো খবর নেই। স্টেশন মাষ্টার বলছে ট্রেন স্টেশনে ঢুকবে রাত ৯টার আগে নয়।

অপর এক যাত্রী বলেন, পাঁচ দিন আগে স্টেশনে এসেও ট্রেনের টিকিট পেলাম না। বাধ্য হয়ে আসনবিহীন টিকিট কেটেছি। এখন ট্রেনে উঠতে পারব কি না ভেবে পাচ্ছি না। যত কষ্ট হোক পরিবার নিয়ে আজকের মধ্যে ঢাকা পৌঁছাতেই হবে।

ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় বিষয়ে চাটমোহর স্টেশন সহকারী মাস্টার তাওলাদ হোসেন (মিরাজ) বলেন, ট্রেন বিলম্বে চলাচল করাকে আমরা সিডিউল বিপর্যয় বলতে পারি না। ঢাকাগামী প্রতিটি ট্রেনে প্রচুর যাত্রী সমাগম থাকার ফলে তাদের উঠানামায় একটু সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। তাই প্রতিটি ট্রেন একটু বিলম্বে ছাড়তে হচ্ছে। তাছাড়া ট্রেনের ক্রসিংজনিত কারণেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক গতি রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরো জানান, আমাদের চাটমোহর স্টেশনে বর্তমানে সর্বমোট ৮টি আন্তঃনগর ট্রেন ও ১টি ঈদ স্পেশাল ট্রেন প্রতিদিন ঢাকামুখী চলাচল করছে। এ সকল ট্রেনের মোট আসন সংখ্যা প্রায় আড়াই শ টি। আর এই স্টেশন থেকে প্রতিদিন ঢাকা অভিমুখে মানুষ যাত্রা করছে ৫০০ থেকে ৭০০ জন। ঈদের মুহূর্তে যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায়। এই সীমিত আসন দিয়ে এত বড় স্টেশনে মানুষের আসন চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা