kalerkantho

চুরির অভিযোগ

শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার পর রিকশাচালকের মৃত্যুর ঘটনায় আটক ১

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৭ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:০১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার পর রিকশাচালকের মৃত্যুর ঘটনায় আটক ১

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এক রিকশাচালকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার চালকের মৃত্যুর ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রিকশা চুরির অভিযোগে গত তিনদিন (১৫ আগষ্ট) আগে নেত্রকোণা জেলার কালিয়াজুড়ি উপজেলার আসাদপুর গ্রামের মৃত মফিজ মিয়ার ছেলে রিকশাচালক জামির হোসেন (৩৫)কে ধরে নিয়ে যায় জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবনগর এলাকার বাসিন্দা রিকশা গ্যারেজের মালিক শাকিল আহমদ ওরপে সেকেল। শাকিল তাঁর বাড়িতে শিকল দিয়ে জামির হোসেনকে বেঁধে রাখেন। এক পর্যায়ে শুক্রবার দুপুরের দিকে রিকশাচালক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে তাকে সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে কিছুক্ষণ পরে আবার তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে কর্মরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গতকাল সকালে পুলিশ শালিক আহমদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। রিকশাচালক জামির হোসেন তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে গ্যারেজের মালিক শাকিল আহমদের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত ডাঃ নাজমুল শাহাদাত বলেন, অসুস্থ অবস্থায় জামির হোসেনকে যখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার হয় তখন তার বুকে ব্যথা হচ্ছিল। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেটে রেফার্ড করি। এ সময় ওই ব্যক্তি কথাও বলেছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আবার তাঁকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনা হলে তখন আমরা তাকে মৃত ঘোষণা করি। 

তিনি আরো বলেন, ওই সময় রোগির সঙ্গে থাকা লোকজন জানান- তারা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

এ ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এসআই লুৎফুর রহমান বলেন, রিকশা চুরির অভিযোগে চালককে তিনদিন আটক করে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এ অবস্থায় চালক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এক পর্যায়ে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আমরা গ্যারেজের মালিক শাকিল আহমদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের সুনামগঞ্জ সুনামগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা