kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

তাদের চোখে পানি, পশুর চামড়া সড়কে ফেলে নীরবে বাড়ি ফিরেছেন খালি হাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম    

১৫ আগস্ট, ২০১৯ ১০:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাদের চোখে পানি, পশুর চামড়া সড়কে ফেলে নীরবে বাড়ি ফিরেছেন খালি হাতে

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবিক্রীত পশুর চামড়া। ঈদের দিন সন্ধ্যায় আতুরার ডিপো এলাকা। ছবি : রবি শংকর

এবার কোরবানি ঈদে পশুর বর্জ্যের সঙ্গে যোগ হল পচা চামড়া। এসব চামড়া দ্রুত অপসারণ করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নকর্মীদের অনেকটা হিমশিম খেতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোরবানি ঈদে গবাদি পশুর চামড়া ঘিরে মৌসুমি ব্যবসায় জড়িয়ে পথে বসেছে নগরের হাজারো যুবক। পুঁজি হারিয়ে নীরবে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে এসব যুবক পশুর চামড়া সড়কে ফেলে বাড়ি ফিরেছেন খালি হাতে। অন্যদিকে সড়কের মোড়ে মোড়ে পড়ে থাকা এসব পচা চামড়া পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হাজার হাজার পচা চামড়া হালিশহর আনন্দবাজার ও আরেফিন নগরের ভাগাড়ে ফেলতে হয়েছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে ২০০ শ্রমিক ও ৮টি পে-লোডারের সাহায্যে ৩২টি ট্রাকে ৯০ ট্রিপে এক লাখেরও বেশি পচা চামড়া অপসারণ করা হয়।

চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের প্রধান শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী যিশু বলেন, ‘এটি একেবারে অপ্রত্যাশিত কাজ। চাকরিজীবনে এমনটি আর দেখিনি। বড় বড় গরুর সুন্দর সুন্দর চামড়া পচে-গলে গেছে। যত রাত হচ্ছিল তত দুর্গন্ধ বাড়ছিল। আমরা এক হাজার কেজি ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়েছি পচা চামড়া অপসারণের জায়গাগুলোতে। নগরের কাঁচা চামড়ার প্রধান বাজার হামজারবাগ, আতুরার ডিপোসহ বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পচা চামড়াগুলো সরানো হয়েছে।’

৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী জানান, চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় কাঁচা চামড়ার আড়ত নগরের হামজারবাগ-আতুরার ডিপো এলাকায়। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এখানে ট্রাকে ট্রাকে কাঁচা চামড়া নিয়ে আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ী আর বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানার লোকজন। কিন্তু এবার চামড়ার দামে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রথমে ৩০০ টাকায় বড় চামড়া কিনছিলেন আড়তদাররা। এরপর ২০০-১০০ টাকায় নেমে আসে। এরপর ক্রেতার দেখা মেলেনি বাজারে। চামড়া নিয়ে যেসব ট্রাক এসেছিল অনেকে ভাড়াটাও তুলতে পারেনি চামড়া বেচে। পরে একপর্যায়ে চামড়ার স্তূপ, ট্রাকভর্তি চামড়া ফেলে পালিয়ে যান মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘চার বছর সফলতার সঙ্গে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেছি। এতদিন আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল-আড়তদারেরা চামড়ায় লবণ দেওয়ার পর সড়কে ফেলা পশুর কান, লেজ, পচা মাংস এসব বর্জ্য দ্রুত অপসারণ। এবার নতুন সমস্যা পচা চামড়া অপসারণ। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নির্দেশনায় এ সমস্যাও দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি আমরা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা