kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

জিন তাড়ানোর নামে ইমামের ধর্ষণ

'মেয়ের ওপর জিনের আছর আছে, একা ঘরে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করতে হবে'

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ আগস্ট, ২০১৯ ০৯:৫৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'মেয়ের ওপর জিনের আছর আছে, একা ঘরে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করতে হবে'

নীলফামারীর সৈয়দপুরের একটি গ্রামে জিন তাড়ানোর নামে মসজিদের এক ইমাম স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে মেয়েটিকে ধর্ষণচেষ্টার সময় অভিযুক্ত ইমামকে আটক করে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। ধর্ষণের অভিযোগে গত রবিবার মেয়েটির বাবা সৈয়দপুর থানায় মামলা করেছেন।

কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের আরাজি কিসামত হুগলীপাড়া গ্রামে গত ৩ আগস্ট ধর্ষণ ও ১০ আগস্ট ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মো. সাকিব (৩০) রংপুর কোতোয়ালি থানাধীন জানপুর এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে ও আরাজি কিমাসত হুগলীপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, হুগলীপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে থেকে মসজিদে ইমামতি করেন সাকিব। পাশাপাশি গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে এক বেলা করে খাবার খেয়ে বাড়ির শিশুদের আরবি (ধর্মীয়) শিক্ষা দিয়ে আসছিলেন। গত ৩ আগস্ট সাকিব গ্রামের একটি বাড়িতে গিয়ে গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রীকে বলেন, তাঁদের স্কুলছাত্রী মেয়ের ওপর জিনের আছর রয়েছে। এ জিন তাড়াতে মেয়েটিকে একা ঘরে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করতে হবে। এ কথায় মেয়েটির পরিবার সম্মতি দেয়। সাকিব লোকজনকে বাড়ির বাইরে বের করে দিয়ে মেয়েটিকে একটি ঘরে নিয়ে ঝাড়ফুঁকের নামে ধর্ষণ করেন। মেয়েটি লোকলজ্জায় ঘটনা কাউকে জানায়নি। ১০ আগস্ট ইমাম সাকিব বাড়িটিতে গিয়ে ঝাড়ফুঁকের নামে একই কায়দায় মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। মেয়েটির চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে যায়। মেয়েটি ঘটনা খুলে বলে। পরে গ্রামের লোকজন ইমামকে ধরে বেধড়ক পিটুনি দেয়। গত মঙ্গলবার নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া সে নীলফামারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

সৈয়দপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল হাসনাত খান বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা