kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

চামড়ার ন্যায্য মূল্য না থাকায় হতাশ এতিম ও দুস্থ মানুষ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

১৪ আগস্ট, ২০১৯ ২০:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চামড়ার ন্যায্য মূল্য না থাকায় হতাশ এতিম ও দুস্থ মানুষ

এ বছর কোরবানির চামড়ার ন্যায্য মূল্য না থানায় দুস্থ ও এতিমরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেকেই ন্যায্য মূল্য না পেয়ে চামড়া ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে। এতে চামড়ার ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায় চরমভাবে মার খেয়েছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মির্জাপুর উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রায় ৫ হাজার ৫০০ গরু ও ৮ হাজার ছাগলের চাহিদা ছিল। কোরবানিও হয়েছে চাহিদা অনুযায়ী। সাধারণত কোরবানিদাতারা প্রতি বছর কোরবানী শেষে পশুর চামড়া এলাকার দুস্থ, এতিম ও বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান করে দেন। আবার অনেকেই তা বিক্রি করে গরীবদের মাঝে টাকা বিতরণ করেন।

এ বছর চামড়ার দাম না পাওয়ায় দুস্থ ও গরিবদের মধ্যে সে অর্থ বিতরণ করতে পারেননি। কারণ বড় গরুর চামড়া অন্য বছর বিক্রি হয়েছে ১৫০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা, মাঝারি গরুর চামড়া  ১ হাজার টাকা থেকে ১৫০০ টাকা, ছোট গরু ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। কিন্তু এ বছর বড় গরুর চামড়া ৫০০ টাকা, মাঝারি গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ও ছোট গরুর চামড়া ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বড় ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে চামড়ার নায্য মূল্য না পাওয়ায় দুস্থ ও এতিমরা তাদের নায্য হক থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে এতিমখানা ও অনুদানে পরিচালিত বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে কেনা গরুর চামড়ার দাম ৪০০ টাকা পেয়েছেন। গত বছর ৯১ হাজার টাকার গরুর চামড়া ১ হাজার টাকা বিক্রি করেছিলেন বলে জানান। 

মির্জাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, তিনি এ বছর ১ লাখ ১ হাজার টাকা মূল্যের গরুর চামড়ার দাম পেয়েছেন ৪০০ টাকা। গত বছর ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের গরুর চামড়ারাম পেয়েছিলেন ৮০০ টাকা। এর আগের বছর ৭৯ হাজার টাকা মূল্যের গরুর চামড়ার দাম পেয়েছিলেন ১ হাজার ৪০০ টাকা। চামড়ার বাজারে ক্রমেই ধস নামছে। এতে গরিব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’

মির্জাপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, কম দামের কারণে তিনি কোরবানিকৃত ছাগলের চামড়া ফেলে দিয়েছেন। আগে চামড়া বিক্রিলব্ধ অর্থ হতরিদ্রদের মধ্যে বিলি করা হতো। কিন্তু চামড়ার ন্যায্যমূল্য না থাকায় তাঁরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

মির্জাপুর ইসলাম যুব কল্যাণ দারুল উলুম মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হাফেজ মাওলানা ফরিদ হোসাইন বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোরবানির চামড়া বিক্রির টাকার একটি অংশ পেয়ে খরচ যুগিয়ে থাকেন। এ বছর চামড়ার দাম না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ বহন করতে হিমশিমে পড়তে হবে বলে তিনি জানান।  

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মঈনুল হক সারাদেশের মত মির্জাপুরেও চামড়ার ওপর প্রভাব পড়েছে বলে উল্লেখ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা