kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

শিশু ও নারীসহ গুলিবিদ্ধ ১৭

সন্ত্রাসী ‘ফারুক বাহিনী’র তাণ্ডব, নির্বিচার গুলিতে দুজন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

১৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৭:৫০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সন্ত্রাসী ‘ফারুক বাহিনী’র তাণ্ডব, নির্বিচার গুলিতে দুজন নিহত

কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত গ্রাম মাইজচরের চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ফারুক বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে ওই গ্রামের শ্যামপুরপাড়ায় নৃশংস এ ঘটনাটি ঘটে। ছররা গুলিতে বিদ্ধ হয়ে শিশু ও মহিলাসহ আরো অন্তত ১৭ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিহত দুই যুবকের নাম শরীফ মিয়া (৩৫) ও ফোরকান মিয়া (২৮)। নিহত দুজন সম্পর্কে চাচাতো ভাই। 

বুধবার দুপুরে জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মরচ্যুয়ারিতে নিহত দুই যুবকের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর পুলিশের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, ফোরকানের শরীরে ৩১টি ও শরীফের শরীরে ১৪টি স্থানে ছররা গুলি বিঁধেছে। দুজনের বুকে, মাথায় ও হাতে এসব গুলি লেগেছে। গুলিতেই তাঁরা মারা গেছেন। 

বাজিতপুর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান পাটোয়ারী বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে জানান, জোড়াখুনের ঘটনায় এখনো থানায় এজাহার দায়ের করা হয়নি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে দুজনের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করানো হবে। হত্যাকারীরা গা ঢাকা দেওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ফারুক বাহিনী প্রধান ফারুক সম্পর্কে তাঁর ভাষ্য, ফারুকের নামে বিভিন্ন থানায় মামলা আছে। সে খারাপ লোক।

মাইজচর শ্যামপুরপাড়া মুন্সিবাড়ির চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফারুক মিয়া (৪০) তার ভাইবেরাদর ও এলাকার অস্ত্রধারীদের নিয়ে আরো আগেই একটি বাহিনী গড়ে তোলে। পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ফারুকের নেতৃত্বে তার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা হাওরের জলযানে ডাকাতি, গরু চুরি থেকে শুরু করে ইয়াবাসহ সবধরণের মাদকের কারবার করে আসছে।

সূত্রগুলো আরো জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে খুনসহ নৌডাকাতি, মিঠামইনের হাওরে নৌডাকাতি, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ইয়াবার বড় চালানের মামলাসহ বিভিন্ন থানায় ফারুকের বিরুদ্ধ একাধিক মামলা রয়েছে। ফারুক বাহিনীর নানা অপকর্মের বিরোধিতা করা ও টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরেই গতকালের (বুধবার) মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।   
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, হতাহতদের পরিবার ও গ্রামবাসী জানায়, মাইজচর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. বাক্কার মিয়ার ভাই চাল ব্যবসায়ী মওলা বুধবার সকালে ধান কেনার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফারুক ও তার ভাই আনিস তাঁকে আটক করে মারধর করে। খবর পেয়ে মওলার গোষ্ঠীর লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে যায়। এর পরপরই ফারুক ও আনিসের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। গ্রামবাসী সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা কমপক্ষে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে অবাধে গুলি ছুড়তে দেখেছেন।

৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুর রাশিদসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ফারুক বাহিনীর সন্ত্রাসীরা চারটি অবৈধ বন্দুক দিয়ে নির্বিচার গুলি ছোড়ে। এতে বাক্কার মেম্বারের পরিবারের সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন কমবেশি ছররাবিদ্ধ হন। এরপর আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীফ ও ফোরকানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকিদের দুই হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গুলিবিদ্ধরা হচ্ছেন, শাহ জামাল (৩৫), শাফায়াত উল্লাহ (১৮), আজিজুর রহমান (১৫), মো. জালাল মিয়া (৫০), স্বপন মিয়া (২৬), সালমা বেগম (৩৮), নীলা (১৩), নূর আলম (২৬), তৌহিদ মিয়া (৪০), আফিয়া খাতুন (৫৫), শাফায়াতউল্লাহ-২ (২০), স্বপন মিয়া-২ (৩০), কামাল মিয়া (৩৫), রহিমা বেগম (৫০), মুর্শিদ মিয়া (৪৮)। জানা যায়, নিহত শরীফ দুই সন্তানের এবং ফোরকান এক সন্তানের জনক। 

মাইজচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তৈয়্যবুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, একতরফা হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকালীদের কথিত নেতা ফারুক চরম খারাপ প্রকৃতির লোক বলে এলাকায় স্বীকৃত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা