kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে ছিল যুবলীগ নেতার লাশ

ধামইরহাট-পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৬:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে ছিল যুবলীগ নেতার লাশ

ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সামনে এভাবেই পড়ে ছিল যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলামের লাশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

নওগাঁর ধামইরহাটে এক যুবলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। তার লাশ হাসপাতালের মাটিতে পড়ে ছিল। মায়ের করুণ আর্তনাদেও নৈশপ্রহরীসহ সংশ্লিষ্ট কেউ লাশটিকে হাসপাতালের বারান্দায় ওঠাতে দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। নিহত ওই যুবকের নাম রবিউল ইসলাম (৪৫)। সে চকময়রাম গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিন মাস্টারের ছেলে এবং থানা যুবলীগের সহসভাপতি।

যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলামের ভাতিজা এম এ মালেক বিপুল বলেন, গত ১০ জুলাই শনিবার রাত ১টার নিজ বাড়িতে তার চাচা রবিউল ইসলামের বুকে ব্যথা শুরু হয়। পরবর্তীতে ওই রাতে কোনো যানবাহন না পেয়ে রবিউল ইসলামের বৃদ্ধা মা মাজেদা বেগম (৭০) ও কাজের বুয়া আরজু (৪৫) কে নিয়ে হেঁটে হাসপাতাল অভিমুখে রওনা দেয় রবিউল। ধামইরহাটের ঘুকসি ব্রিজের নিকট এসে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় একটি অক্টোতে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কলাপসিবল গেট বন্ধ থাকায় তাকে ভেতরে নেওয়া সম্ভব হয়নি। গেট বন্ধ করে চিকিৎসক, উপসহকারী কমিউিনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও নৈশপ্রহরী ঘুমিয়ে ছিল। তাদের অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর তারা ঘুম থেকে ওঠে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রহল্লাদ কৃঞ্চ বর্মণ রবিউলকে দেখে তাকে মৃত ঘোষণা করে চলে যান। পরবর্তীতে অক্টো গাড়ির চালক লাশটিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে চলে যায়। 

এ সময় রবিউলের অসহায় মা উপস্থিত উপসহকারী কমিউিনিটি মেডিক্যাল অফিসার রায়হান হোসেন রাজুকে অনুরোধ করেন তার ছেলের লাশটিকে হাসপাতালের বারান্দায় রাখা হোক। কিন্তু কেউ অসহায় মায়ের আর্তনাদে সাড়া দেয়নি। অনেকক্ষণ ধরে লাশটি জরুরি বিভাগের সামনে খোলা আকাশের নিচে পড়ে ছিল। বিপুল আরো বলেন, হাসপাতালের লাইট ও জরুরি বিভাগের যাওয়ার দরজা বন্ধ ছিল। 
এ দুঃখজনক ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ও পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের শাস্তি দাবি করা হয়। এ ব্যাপারে জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাড. খোদাদাদ খান পিটু বলেন, থানা যুবলীগের সহসভাপতি ও থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের যদি এ অবস্থা হয়। তাহলে সাধারণ মানুষ হাসপাতালে কতটুকু সেবা পাচ্ছে সেটি ভেবে দেখা উচিত।

ডা. প্রহল্লাহ কৃঞ্চ বর্মণ এ ব্যাপারে বলেন, তাকে জানানো মাত্র তিনি ওই রোগীকে অক্টো গাড়িতে দেখতে যান। তার যাওয়ার আগে সে মারা যায়। যেহেতু রোগী মারা গেছে তাই এ অক্টোতে করে বাড়ি নেওয়ার কথা রোগীর লোকজনকে জানিয়ে চলে আসি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে ওই দিন যাদের ডিউটি ছিল তাদের কাছ থেকে ঘটনা সম্পর্কে লিখিত প্রতিবেদন নেওয়া হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা