kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

জিন তাড়ানোর নামে ইমাম কর্তৃক ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

১৪ আগস্ট, ২০১৯ ১২:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জিন তাড়ানোর নামে ইমাম কর্তৃক ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন

নীলফামারীর সৈয়দপুরের পল্লীতে জিন তাড়ানোর নামে মসজিদের ইমাম কর্তৃক ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা গতকাল মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। একই দিন স্কুলছাত্রী ধর্ষণের বিষয়ে নীলফামারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে।

উপজেলার ২ নম্বর কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের আরাজি কিসামত হুগলীপাড়ায় এ ঘটনায় গত ১১ আগস্ট রাতে সৈয়দপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মো. সাকিব (৩০) নামের ইমামের বিরুদ্ধে ওই ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। 

মামলা আরজিতে উল্লেখ করা হয়, রংপুর কোতোয়ালি থানাধীন জানপুর এলাকার মৃত. মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মো. সাকিব (৩০)। সে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের আরাজি কিমাসত হুগলীপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিল। ওই গ্রামের জনৈক মো. লুৎফর রহমানের বাড়িতে থেকে মসজিদে ইমামতি করত সে। পাশাপাশি সে ওই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে এক বেলা করে খাবার খেয়ে বাড়ির শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন গত ৩ আগস্ট ইমাম মো. সাকিব গ্রামের জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে যায়। এ সময় হাজারীহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া গৃহকর্তার মেয়ের ওপর কুনজর পড়ে তার। এ সময় ওই মেয়ের ওপর জিনের আছর রয়েছে বলে তার বাবা-মা জানায় সে। আর তার শরীরে ভর করা জিন তাড়াতে হবে। তাকে একাকী ঘরের মধ্যে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করতে হবে এবং সে ওই ঝাড়ফুঁক করেন বলে স্কুলছাত্রীর বাবা-মাকে জানায়। তার এমন কথায় স্কুলছাত্রীর পরিবারের লোকজন সম্মতি দেয়। এ সময় ইমাম লোকজনকে বাড়ির বাইরে বের করে দিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে বাড়ির একটি শোয়ার ঘরেনিয়ে ঝাড়ফুঁকের নামে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। কিন্তু এ ঘটনাটি স্কুলপড়ুয়া ওই ছাত্রী লোকলজ্জায় ভয়ে ওই দিন আর পরিবারের সদস্যদের কাউকে জানায়নি। এরপর গেল ১০ আগস্ট ইমাম আবারো ওই স্কুলছাত্রীকে বাড়ি এসে ঝাড়ফুঁকের নামে একই কায়দায় ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ওই ছাত্রী চিৎকার দিলে পরিবারের লোকজন দ্রুত ছুটে যান। এ সময় স্কুলছাত্রী পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনা খুলে বলে। পরে গ্রামের লোকজন ঘটনাটি জানতে পেরে ইমামকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ইমামকে আটক করে। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ইমাম মো. সাকিবের বিরুদ্ধে গত ১১ আগস্ট সৈয়দপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের  করেন। পুলিশ ওই দিনই ধর্ষক ইমাম সাকিবকে গ্রেপ্তার করে নীলফামারী কারাগারে পাঠায়। গতকাল মঙ্গলবার ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়।
 
সৈয়দপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল হাসনাত খান ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলার বিষয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা