kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

সেই কোহিনূরের হাতে লাখ টাকা তুলে দিলো ফেসবুক গ্রুপ 'নবীনগরের আঞ্চলিক কথা'

গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)   

১৪ আগস্ট, ২০১৯ ১০:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই কোহিনূরের হাতে লাখ টাকা তুলে দিলো ফেসবুক গ্রুপ 'নবীনগরের আঞ্চলিক কথা'

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামের অসুস্থ সেই কোহিনূরের হাতে এবার নগদ লক্ষাধিক টাকা তুলে দিলো  'নবীনগরের আঞ্চলিক কথা' নামের একটি ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ। গতকাল মঙ্গলবার রতনপুর গ্রামে গিয়ে ওই গ্রুপের সদস্যরা কোহিনূরের হাতে নগদ এক লাখ ৯ হাজার ২৯২ টাকা তুলে দেন। এ সময় নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক কাজী ওয়াজেদ উল্লাহ জসীম, এলাকার বিশিষ্টজন আবদুল কাইয়ুম ছুট্টু মিয়া এবং 'নবীনগরের আঞ্চলিক কথা' গ্রুপের সভাপতি মোজাম্মেল হক, অ্যাডমিন বাবুল ভূঁইয়া, আসাদুজ্জামান, সোহেল রানাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

নবীনগরের আঞ্চলিক কথা নামের জনপ্রিয় ওই গ্রুপের অন্যতম অ্যাডমিন বাবুল ভূঁইয়া আজ বুধবার সকালে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কোহিনূরের চিকিৎসার জন্য মাস খানেক আগে আমরা নবীনগরের কথা গ্রুপের পক্ষ থেকে আমাদের ফেসবুক পেইজটিতে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে সহযোগিতা চাই। এরপরই বিভিন্ন বন্ধুরা টাকা পাঠাতে থাকেন। আজ বন্ধুদের পাঠানো পুরো টাকাটা কোহিনূরের হাতে তুলে দিতে পেরে ভীষণ তৃপ্তিবোধ করছি।'

জানা গেছে, ২০১৫ সালের গোড়ার দিকে  উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাপ-মা হারা এতিম কোহিনূর (১৬) পিঠের ব্যাথায় মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে গ্রামবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় ঢাকায় এনে তার মেরুদণ্ডে দুটি রড লাগানো হয়।

এরপর বাড়ি ফেরে সে। কিন্তু গত চার বছর ধরে অসুস্থ শরীর নিয়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষে করে ছয় বছর বয়সী একমাত্র ভাইটিকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে থেকে কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে মেয়েছি। মাস তিনেক আগে মেরুদণ্ডের ব্যথা আবারও ফিরে আসে। তীব্র আকার ধারণ করলে কোহিনূর আবারো শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। এসময় তার মেরুদণ্ডে লাগানো দুটি রড দুইদিক থেকে বের হয়ে পিঠে মারাত্মক পচন ধরে।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে কোহিনূরের এই মানবিক ঘটনাটি নবীনগরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুমের নজরে আসে। পরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যগী হয়ে কোহিনূরকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে ঢাকার 'ডু সামথিং ফাউন্ডেশনে' পাঠান। সেখানে ফাউন্ডেশনের দুই সদস্য ডা. কাজী আয়েশা সিদ্দিকা বর্ণা ও ডা. হাসান মাহমুদের তত্বাবধানে কোহিনূরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

সেখানে গত দুই সপ্তাহ কোহিনূরের যাবতীয় দেখভাল ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অবশেষে তার মেরুদণ্ডে সফল অস্ত্রোপচার করেন অধ্যাপক ডা. শাহ আলম। এরপর কোহিনূর সুস্থ হয়ে সম্প্রতি রতনপুর গ্রামে ফিরে আসে।

এদিকে, কোহিনূরকে সুস্থ করে তোলার মূল উদ্যোগী নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে  তার জন্য সরকারি খাস জায়গা বন্দোবস্ত দেয়াসহ তার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্যও আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।'

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই 'ভাঙা মেরুদণ্ড নিয়ে লড়ছিলো কোহিনূর, পাশে দাঁড়ালেন নবীনগরের ইউএনও মাসুম' এবং গত ১৭ জুলাই 'অবশেষে কোহিনূরের মেরুদণ্ড থেকে বের করা হলো দুটি রড' শিরোনামে দুটি সচিত্র প্রতিবেদন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা