kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

দুর্গাপুরে চামড়ার দাম নেই, বিপাকে বিক্রেতারা

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

১৩ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্গাপুরে চামড়ার দাম নেই, বিপাকে বিক্রেতারা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে কোরবানি পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। ঈদের দিন কোরবানি শেষে উপজেলার বিভিন্ন হাটে কোরবানি পশুর কাঁচা চামড়া বিক্রি করতে এসে বিমর্ষ হয়ে পড়েন তারা। চামড়া কেনার লোক খুঁজে পাওয়াই দায় হয়ে পড়েছে। কিছু ব্যবসায়ী হাট-বাজারে থাকলেও দাম বলতে নারাজ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী এবার ঢাকার বাইরে গরুর কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

দুর্গাপুরের বৃহত্তম হাট সিংগায় সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকায়। আর মাঝারি মানের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। যা গত বছরও ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অনেকে বলছেন, গরিবের হক চামড়া নিয়ে একটি মহল বিশাল সিন্ডিকেট করে অন্তরালে খেলা খেলেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দুই যুগেও এমন দামে পশুর চামড়া বিক্রি হয়নি। বিগত বছরগুলোতে নামাজের পরপরই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের ভিড় করে থাকলেও এবার তেমন একটা ভিড় দেখা যাযনি।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এবার ফড়িয়া বা মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা মিলছে না। কোথাও কোথাও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার চামড়ার দামে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে। 

ঈদের দিন সোমবার বিকেলে সরেজমিন উপজেলার আমগাছি, কানপাড়া, ধরমপুর, দাওকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি করা বেশিরভাগ পশুর চামড়া ব্যাপারীর অভাবে রাস্তার পাশে মোড়ে মোড়ে ফেলে রেখেছে। এ ছাড়া চামড়া নেওয়ার লোক না থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে মাটির নিচে পুঁতে ফেলছেন।

উপজেলার দেলুয়াবাড়ী গ্রামের মাজদার হোসের বলেন, দুর্গাপুর বাজারে গরুর চমড়া কেনার ব্যবসায়ী থাকলেও ছাগলের চামড়া কেনার ব্যবসায়ী নেই। তিনি ছাগলের কাঁচা চামড়া বিক্রি করেছেন প্রতি পিস ১০-১৫ টাকায়। অথচ তার চামড়া বহনকৃত গাড়ি ভাড়া গুনতে হয়েছে ১৫-২০ টাকা।

নাটোরের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত বছর দুর্গাপুর বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া ১২০০ টাকায় কেনা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এ বছর সেই মানের চামড়া কেনা সম্ভব হয়েছে ৬০০ টাকারও কমে। বিগত দুই যুগেও চামড়ার এমন দরপতন হয়নি।

দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের মৌসুমি কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী আলমগীর কবির বলেন, এবার আমরা চামড়া নিচ্ছি না। বাজার খুব খারাপ। পাইকারী ব্যবসায়ীরা এবার আগে থেকে সাবধান করে দিয়েছে। সরকার চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকার ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে চামড়ায় ত্রুটি দেখিয়ে সেই দাম দেয় না। যার কারণে এ বছর চামড়া না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা