kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ অক্টোবর ২০২২ । ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাত লক্ষাধিক মুসল্লির জন্য প্রস্তুত গোর এ শহীদ ময়দান

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাত লক্ষাধিক মুসল্লির জন্য প্রস্তুত গোর এ শহীদ ময়দান

দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত হয়েছে এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ মিনার দিনাজপুর গোর এ শহীদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ। নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নামাজে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসন নিয়েছেন ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে আবহাওয়া খারাপ হলে পার্শ্ববর্তী বড়ময়দানস্থ মসজিদ ও আশপাশের এলাকার মসজিদে নামাজ আদায় করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর এ শহীদ ময়দানের পশ্চিম প্রান্তে ২০১৫ সালে এই ঈদগাহের নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণের প্রায় দেড় বছরে এটি নামাজের জন্য পুরো প্রস্তুত করা হয়। উপমহাদেশে এর তুলনা করার মতো অন্য কোনো ঈদগাহ মাঠ নেই। এটি একমাত্র ঈদগাহ। এই ৫২ গম্বুজের দুই ধারে ৬০ ফুট করে ২টি মিনার, মাঝের দুটি মিনার ৫০ ফুট করে এবং প্রধান মিনারের উচ্চতা ৫৫ ফুট। এই সব মিনার আর গম্বুজের প্রস্থ হলো ৫১৬ ফুট। দেশের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক গোড় এ শহীদ ময়দানের পশ্চিম দিকে প্রায় অর্ধেক জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই ঈদগাহ মিনারটি। প্রত্যেকটি গম্বুজে বৈদ্যুতিক বাতি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। মিনার দুটির উচ্চতা ৫০ ফিট, যে মেহেরাবে খতিব বয়ান করবেন সেটির উচ্চতা ৫০ ফুট। ৫২টি গম্বুজ ২০ ফুট উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে। গেট দুটির উচ্চতা ৩০ ফুট। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠ প্রস্তুতি কাজ চলছে পুরোদমে। যেখানে খাল রয়েছে সেই জায়গাগুলো মাটি দিয়ে পূরণ করা হচ্ছে। দেশের এত বড় ঈদগাহ মাঠ নামাজ আদায়ের জন্য মাঠ তৈরিতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। গোটা মাঠ যেন সবুজের ঘাসের আস্তরণের পরিণত হয়েছে। মাঠে নামাজের দাড়ানোর জন্য চুন দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে লম্বা লম্বা লাইন। ইতিমধ্যে মাঠের বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে ৪টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণের টাওয়ার। মাঠের আরেকটি অংশে ঘেরা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন যানবাহনের গ্যারেজ। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী স্টেশন ক্লাব, সার্কিট হাউজ, শিশু একাডেমি ও জেলা গণগ্রন্থাগারেও যানবাহন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।  

জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম জানান, শুধু বাংলাদেশই নয়, উপমহাদেশে এত বড় মিনার সম্বলিত ঈদগাহ মাঠ আর একটি নেই। এ বছর প্রায় ৭ লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে যা শোলাকিয়ার চেয়ে অনেক বড়। তবে ঈদ-উল ফিতরের প্রধান নামাজে দেশের সর্ববৃহৎ ৬ লাখ মুসল্লি একসাথে এই মাঠে নামাজ আদায় করেছেন। লোক সমাগম বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সাথে কথা বলা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই ঈদগাহ মাঠে লোক সমাগম অনেক বেশি হয়ে থাকবে যা ইতিহাস হয়ে থাকবে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম জানান, ৫২ গম্বুজের এই ঈদগাহ মাঠে এবছর পবিত্র ঈদ-উল আযহার প্রধান জামাতে এক সাথে ৭ লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। এই ঈদগাহ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে তিন কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রতিবছর দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়।

দিনাজপুরবাসী আশা করছে, এবার থেকে ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মাঠে সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। দিনাজপুর সদর আসনের এমপি জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এই বড় ঈদ জামাতের উদ্যোগ নিয়েছেন। দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের নামাজে ইমামতি করেন দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের খতিব শামসুল ইসলাম কাশেমী।

পবিত্র ঈদ-উল আযহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জেলা প্রশাসন ও দিনাজপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও যদি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হয় তাহলে বড়মাঠের পাশে মসজিদসহ আশপাশের এলাকার মসজিদগুলোতে একযোগে নামাজ আদায় করা হবে।

পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম জানান, প্রায় ৭ লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদের প্রধান জামাতকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদগাহের চারপাশে মেটেল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের তল্লাশীর পর জামাতে প্রবেশ করানো হবে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাদা পোশাকে ঈদগাহ প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করবেন। র‌্যাবসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরাও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সক্রিয় থাকবেন। মাঠের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত হয়েছে ৪টি বিশাল পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।  



সাতদিনের সেরা