kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

ফতুল্লায় আরেক সেক্স ম্যানিয়াক মাদরাসা শিক্ষক র‍্যাবের জালে

'হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গুনাহ হবে' বলেই ধর্ষণ

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ জুলাই, ২০১৯ ১৪:৩২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গুনাহ হবে' বলেই ধর্ষণ

গত ২৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন দারুল হুদা মহিলা মাদরাসার তিন ছাত্রী অভিযোগ করে- মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান তাদের ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও নানরকম যৌন হয়রানি করেন। এমন গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১১ শুরু করে গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন অনুসন্ধান।

এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ১১ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে গতরাত ৯টার সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন দারুল হুদা নামক মহিলা মাদরাসায় অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান (২৯) কে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ দারুল হুদা মহিলা মাদরাসার ১১ ছাত্রীকে বিগত ৩ বছর ধরে মাদরাসায় তার রুমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানি করে আসছে এবং এই অপকর্মের পর সেইসব ছাত্রীদের কেউ কেউ মুখ খোলার চেষ্টা করলে তাদের একেক জনকে একেক অপবাদ দিয়ে মাদরাসা থেকে বের করে দেয়। এ ভাবে সে বিভিন্ন বয়সী মাদরাসার ছাত্রীদের কখনো বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আবার কখনো জোরপূর্বক ধর্ষণ করত। সে ছাত্রীদেরকে কখনো আখিরাতের ভয় দেখিয়ে হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গুনাহ হবে এবং জাহান্নামে যাবে এ রকম নানা ফতোয়ার মাধ্যমে, তাবিজ করে পাগল করা বা পরিবারের ক্ষতি করার কথা বলে ছাত্রীদের ধর্ষণ করত বলে স্বীকার করে। 

এমনকি তার ৮ বছর বয়সী নিকটাত্মীয় যে তার মাদরাসায় পড়ত তাকেও একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে ভিকটিম এর মা-বাবা অভিযোগ করে যা ধর্ষক অকপটে স্বীকার করে। এ ছাড়াও ধর্ষক মোস্তাফিজ নিজেই বিভিন্ন জাল হাদিস তৈরি করে হুজুরের সাথে সম্পর্ক করা জায়েজ আছে বলে ছাত্রীদের বলত। একটি জাল হাদিসের মাধ্যমে অভিভাবক ও স্বাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয় বলে একাধিক ছাত্রীকে কৌশলে ধর্ষণ করার পর আরেকটি জাল হাদিসের মাধ্যমে তালাক হয়ে গেছে ফতোয়া দিয়ে মাদরাসা থেকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে বের করে দিত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৬ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও আরো ৫ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করে। 

গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা