kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘মিন্নি বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ জুলাই, ২০১৯ ২২:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘মিন্নি বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে’

বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান স্বাক্ষী থেকে আসামি হয়ে যাওয়া নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা। শনিবার বেলা ১১টার দিকে তারা বরগুনা জেলা কারাগারের সামনে এসেছিলেন। এ সময় তারা মিন্নির সঙ্গে দেখা করে মলিন মুখে চলে গেছেন।

মিন্নির সঙ্গে দেখা করার পর তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর অনেকটা ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি কোনো মতামত দিতে রাজি না হলেও রাগের সঙ্গে জানান, তার মেয়ে ভাল নেই, বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে। সাদা পোশাকধারী পুলিশের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য মেয়ের সঙ্গে মন খুলে কথা বলতেও পারলাম না। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও তারা কাছে এসে দাঁড়িয়ে থাকে।’

এর আগে, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গত ১৬ জুলাই রাত ৯টার দিকে গ্রেপ্তার করে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়। পরের দিন বিকাল সোয়া তিনটার দিকে কারাগার থেকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে নিয়ে ৪৮ ঘণ্টা পরেই ১৯ জুলাই বেলা ২টার দিকে মিন্নিকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুনরায় মিন্নিকে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পরেরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা দেখা করে জানান, মিন্নিকে পুলিশ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। গত ২২ জুলাই বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী আসলাম হাসপাতালে নিয়ে মিন্নির চিকিৎসা ও তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে আবেদন করেন। বিচারক তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মিন্নিকে আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে আইনজীবীর হাতে ওইদিনের আবেদনপত্র ফেরত দিয়েছেন।

গত ২৪ জুলাই আইনজীবী এডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলাম কারাগারে গিয়ে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে জানান, মিন্নিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। মিন্নি ভালোভাবে হাঁটতে পারেননা। তার চিকিৎসা দরকার। শনিবারও একই কথা বলেছেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

এদিকে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বরগুনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাবিবুর রহমান কারাগারে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির খোঁজ-খবর নিয়ে জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা