kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান প্রসব

এক মাস পর আদালতে ধর্ষকের আত্মসমর্পণ

আরমান খান, লংগদু (রাঙামাটি)   

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এক মাস পর আদালতে ধর্ষকের আত্মসমর্পণ

ধর্ষক আসামি শামিম হোসেন

জুন মাসের ২৫ তারিখে উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে স্বামী পরিত্যাক্তা এক বাক-প্রতিবন্ধী নারী সন্তান প্রসব করেন। এরপরই এ সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়। কোনো উপায় না দেখে ওই নারীর স্বজনরা তাকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের শরণাপন্ন হন। ওই দিন এ নিয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রচারিত হলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন লংগদু থানা পুলিশ।

পুলিশের সহযোগীতায় পরদিন ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন প্রতিবন্ধী নারীর খালা ফাতেমা বেগম। মামলার প্রায় এক মাস পর পুলিশি তৎপরতায় আসামি শামিম হোসেন গত সোমবার বিকেলে রাঙামাটি আদালতে আত্মসমর্পণ করে। 

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ঘটনায় আমরা নানাভাবে চেষ্টা করেছি আসামিকে আটক করতে। আসামি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে গতকাল বিকেলে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে জেলখানায় পাঠায় এবং ইতিমধ্যে আমরা ভিকটিমের ডিএনএ ফাইল সম্পন্ন করেছি। এখন আদালতে আসামির রিমান্ডের আবেদন করব।

স্থানীয় গ্রামবাসী ও ধর্ষিতা নারীর স্বজনরা জানায়, পিতা-মাতাহীন প্রতিবন্ধী এ নারী খালা ফাতেমা বেগমের কাছে থেকে বড় হয়েছে। খালা ইসলামাবাদ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শুক্কুর আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী। তিন বছর আগে প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে মাইনীমূখ বাজারের প্রহরী সিরাজের সঙ্গে বিয়ে দেন স্বজনরা। সিরাজ দুই বছর আগে স্ত্রীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এর পর আবারও খালা ফাতেমা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেয় প্রতিবন্ধী নারী। খালার বাসায় থেকে প্রতিবেশি সাবেক ইউপি সদস্য জালাল উদ্দীন’র (জালাল মেম্বার) বাড়িতে বুয়ার কাজ করতো এ নারী। 

এ সুযোগে জালাল মেম্বারের ছেলে শামীম হোসেন প্রতিবন্ধী এ নারীকে ধর্ষণ করে। চার মাস পরে স্বজনরা বুঝতে পারে প্রতিবন্ধী মেয়েটি গর্ভবতী। এরপর এ নিয়ে এলাকায় সালিশ বৈঠক হলে অভিযুক্ত শামীম হোসেন সে বৈঠকে হাজির হয়নি। 

ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী নারীর খালা ফাতেমা বেগম বলেন, আসামিদের পক্ষ হতে আমাকে আপসের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। আমি মামলা করেছি এখন আদালতই ঠিক করবে প্রতিবন্ধী মেয়েটি ও তার সন্তানের দায়িত্ব কে নেবে। আমি এ ঘটনার ন্যায় বিচার চাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা