kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

সোনাদিয়া দ্বীপ হচ্ছে একটি ইকোট্যুরিজম পার্ক

বেজা’র বৃক্ষ রোপণ করলেন ড. গওহর রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৩ জুলাই, ২০১৯ ২৩:২৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোনাদিয়া দ্বীপ হচ্ছে একটি ইকোট্যুরিজম পার্ক

ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি ইকোট্যুরিজম পার্ক। এটি হবে প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য এক স্বর্গ রাজ্য। যেখানে থাকবে কাঁকড়া, কচ্ছপ ও সামুদ্রিক প্রাণীসহ সবুজের সমারোহ। এখানে থাকবে না জনসাধারণের প্রবেশের কোনো সুযোগ। দ্বীপটিতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ আরো সমৃদ্ধকরণের উদ্যোগ হিসাবে আজ মঙ্গলবার থেকেই শুরু করা হয়েছে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি।

সোনাদিয়া দ্বীপে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বেজা ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং সিটি ব্যাংকের সহযোগিতায় বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের পরিবেশের বিষয়টি নিয়ে বরাবরই অত্যধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এ কারণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বোর্ডের ৬ষ্ঠ বৈঠকে পরিবেশের দিকে লক্ষ্য রেখে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেন তিনি। শিল্পাঞ্চলে জলাধারের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণেরও নির্দেশনা রয়েছে তাঁর (প্রধানমন্ত্রীর)।

ড. গওহর রিজভী বলেন, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার শিল্পাঞ্চলে ঝাউগাছ লাগানো এবং কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টির প্রতি প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে সকল অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে ১৫ লাখ এবং ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ লাখ গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে বেজার।

সোনাদিয়া দ্বীপ ইকোট্যুরিজম পার্কটি মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়ার বিজয় একাত্তর ও সমুদ্র বিলাস মৌজায় অবস্থিত বলে ড. গওহর রেজভী জানান। দ্বীপে মোট জমির পরিমাণ ৯ হাজার ৪৬৭ একর। সোনাদিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অক্ষুণ্ন রেখে এবং সংরক্ষিত বনকে আরো প্রসারিত করে শুধুমাত্র ৩০০ একর জায়গা জুড়ে ইকোট্যুরিজম পার্কটিকে গড়ে তোলা হবে।

এ ব্যাপারে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, সোনাদিয়া ইকোট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠা করতে বেজা ইতিমধ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এমনকি মাষ্টার প্ল্যান প্রণয়নের লক্ষে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাহিন্দ্রা কনসালটেন্ট ভারতকে। পার্কটিকে পরিবেশ বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বেজা প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র ৩০% স্থান ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এ দ্বীপে বসবাসরত ৩১৫টি পরিবারের পুনর্বাসনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পরিকল্পনাটিও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। সেই মতে এসব লোকজনকে পুনর্বাসনের জন্য স্থানও নির্বাচন করা হয়েছে। দ্বীপে নতুন করে যাতে কোন মৎস্য ঘের ও অবৈধভাবে বসতি গড়ে না উঠে সে বিষয়টি নিশ্চিতকল্পে জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার প্রয়োজনীয় কাজ করছে। দ্বীপ রক্ষাকল্পে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে কাজ করছে।

পবন চৌধুরী আরো বলেন, দ্বীপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং তাদের স্থাপনার জন্য জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হেয়েছে। সোনাদিয়া দ্বীপের জীববৈচিত্র্য বজায় রেখে পরিবেশ-বান্ধব ট্যুরিজম পার্ক গড়ে তুলতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। দ্বীপের উপকূলীয় অংশে ঝাউবন সৃজনের কাজ চলমান। সুপের পানির নিশ্চিতকল্পে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণ। অবৈধ দখল বন্ধে পুলিশ ক্যাম্প ও সশন্ত্র আনসার নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মূখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, টেকসই উন্নয়নের মূল শর্ত অনুযায়ী বৃক্ষরোপণের ফলে জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি ভূমি রক্ষা হবে। সরকার দ্বীপভিত্তিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তাই দ্বীপের জীববৈচিত্র্য এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা অপরিবর্তিত রেখে দ্বীপবাসীদের জীবন ও জীবিকা সংস্থান করার জন্য ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। সোনাদিয়া ইকোট্যুরিজম পার্ক তারই প্রতিফলন।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরুয়াসু ইজুমি, বেজার নির্বাহী সদস্য মো. আয়ুব, সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জামিরুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফ বাদশা, সহকারী কমিশনার অংগ্যাজাই মারমা, ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর,  পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া, ধলঘাটার চেয়ারম্যান কামরুল হাসান, কুতুবজোম ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন খোকন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি জাহাঙ্গির আলম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা