kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

চুয়েটের মেডিক্যাল অফিসারকে ছাত্রলীগ কর্মীর মারধর

০ অনির্দিষ্টকাল চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারে কর্মবিরতি
০ প্রশাসনকে পাঁচ দিনের আলটিমেটাম

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

২৩ জুলাই, ২০১৯ ০২:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুয়েটের মেডিক্যাল অফিসারকে ছাত্রলীগ কর্মীর মারধর

চট্টগ্রাম শহর থেকে বাংলা মদ আনতে অ্যাম্বুল্যান্স না দেওয়ায় ছাত্রলীগকর্মীরা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) মেডিক্যাল সেন্টারের অফিসার ডা. খোরশেদুল আলমকে মেরে আহত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার বিচার দাবিতে গতকাল সোমবার দুপুর থেকে বিএমএর নির্দেশে চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টার বন্ধ করে কর্মবিরতি শুরু করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অন্যদিকে এ ঘটনার বিচার দাবিতে চুয়েট প্রশাসনকে পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে চুয়েট অফিসার অ্যাসোসিয়েশন। এ নিয়ে চুয়েটে কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডাক্তার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারের মেডিক্যাল অফিসার ডা. খোরশেদুল আলম গতকাল বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, শনিবার সকাল ১১টার দিকে চুয়েট ছাত্রলীগকর্মী অতনু ভৌমিক, ফাহাদ হাসানসহ চারজন চুয়েটের মেডিক্যাল সেন্টারে আসেন। তখন আমি ডিউটিতে ছিলাম। ওই চারজন আমাকে বলেন ‘বাংলা মদ কিনে আনতে শহরে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স লাগবে। 

এ সময় আমি তাঁদের বলি, অ্যাম্বুল্যান্স শুধু রোগী আনা-নেওয়া ছাড়া অন্য প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় না। অ্যাম্বুল্যান্স দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁরা চারজন আমাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে আমি অন্য রুমে গেলে সেখানেও তাঁরা আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। বিষয়টি আমি ভিসি প্রফেসর ড. রফিকুল আলমকে জানাই। তিনি বিচারের আশ্বাস দেন।’ 

এদিকে মেডিক্যাল সেন্টারের ডাক্তারকে মারধরের প্রতিবাদ ও দায়ী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার ও শাস্তির দাবিতে চুয়েট অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা চুয়েট প্রশাসনকে পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন। 

গতকাল সকাল ১১টার দিকে মেডিক্যালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভিসির কাছে গিয়ে এ ঘটনার বিচার চান। ভিসি বিচারের আশ্বাস দেন। এরপর তাঁরা বিষয়টি বিএমএর কর্মকর্তাদের জানান। বিএমএর নির্দেশে গতকাল দুপুর ২টা থেকে অনির্দিষ্টকালে জন্য চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ রেখে ডাক্তার-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন। 

আহত ডা. খোরশেদুল আলম বলেন, অতনু ভৌমিক আগেও চুয়েটে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। বিভিন্ন অপরাধ করেছেন। 

অতনু ভৌমিক মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘মারধরের কিছু হয়নি। ওই দিন চুয়েটে র্যাগ ডে ছিল। ব্যানার, পোস্টার আনার জন্য তাঁর কাছে অ্যাম্বুল্যান্স চেয়েছিলাম। তিনি সেটি না দেওয়ায় সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তিনি আমাদের গালমন্দ করায় একপর্যায়ে আমাদের ছোট ভাইদের সঙ্গে তাঁর হাতাহাতি হয়।’

চুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি ইমাম বাকের বলেন, ‘আমাদের ছোট ভাইদের সঙ্গে ডাক্তারের বাগিবতণ্ডা, হাতাহাতি হয়েছে। মারধরের কথা জানি না।’

চুয়েটের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ফারুকজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা