kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু : মামলা তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২২ জুলাই, ২০১৯ ১৯:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু : মামলা তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গৃহবধূ মোছা. আফরোজা আখতার পাখির রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। ভিকটিমের মায়ের অভিযোগ, তার মেয়েকে যৌতুকের কারণে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে ভিকটিমের স্বামীর পরিবার ও পুলিশের দাবি পাখি গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ নিয়ে তাড়াশ থানা ও সিরাজগঞ্জ আদালতে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের লালুয়া মাঝিরা গ্রামের আক্কাস আলীর মেয়ে মোছা. আফরোজা আক্তার পাখির সাথে পার্শ্ববর্তী মাধাইনগর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. ইউনুস আলীর সাথে প্রায় দশ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। কিন্তু পাখির সংসার সুখের হয়নি। বিয়ের পরপর তাকে যৌতুকের জন্য নানাভাবে মারপিট করতেন তার স্বামী। প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বের করে দিতেন। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে।

গত ১১ মার্চ সন্ধ্যায় মুঠোফোনে পাখির মা সুজাতা বেগম তার মেয়ের মৃত্যুর খবর পান। রাত আনুমানিক আটটার সময় তিনি পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উঠানে মেয়ের লাশ দেখতে পান। এ সময় মেয়ের স্বামীর বাড়ির লোকজন পলাতক ছিল। ১২ মার্চ পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলারেল হাসপাতালে পাঠায়।

পাখির মা মোছা. সুজাতা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ওই দিনই পুলিশ তাড়াশ থানায় তার নিরক্ষর স্বামীকে ডেকে নিয়ে তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষর নিয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। তারা হত্যা মামলা দিতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করে।

থানায় হত্যা মামলা না নেওয়ায় ১৯ মার্চ সুজাতা খাতুন সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাখির স্বামীসহ আট জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বিজ্ঞ আদালত তাড়াশ থানাকে এফআইআর করার নির্দেশ দেয়।

বাদী সুজাতা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার চার মাস পেরিয়ে গেলে ও পুলিশ তদন্তের নামে গড়িমসি করছেন। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদেরকে কিছুই বলছেন না। উল্টো আসামিরা মামলা আপস করে নিতে তাকে বারবার চাপ দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ইউডি মামলা নিয়েছি। এ ঘটনায় আদালতেও পৃথক একটি মামলা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা