kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, ৪৮ বছরেও মেলেনি সেতু!

মাহাবুর রহমান, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২২ জুলাই, ২০১৯ ১৫:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, ৪৮ বছরেও মেলেনি সেতু!

নদীটির নাম ‘ছোট শাখা যমুনা নদী’। দিনাজপুরের বিরামপুর ও পাশ্ববর্তী হাকিমপুর উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে এই ছোট নদীটি। দু:খের বিষয়-স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হলেও এই শাখা যমুনা নদীতে একটি সেতু নির্মাণ হয়নি। এ জন্য বর্ষা মৌসুমে ওই অঞ্চলের ১০টি গ্রামের ১৫ হাজার লোককে নৌকায় করে পারাপার হতে হয়। সেতুর অভাবে বর্ষা মৌসুমে তাদের দৈনন্দিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশ স্বাধীনের পর থেকে অনেক এমপি, উপজেলা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

সরেজমিনে গতকাল রবিবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শাখা যমুনা নদীটির পশ্চিম অংশে নদীর পাড়ের সঙ্গে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ঘাসুড়িয়া বিজিবি ক্যাম্প। অন্যদিকে নদীর পূর্ব অংশে রয়েছে হাকিমপুর থানার মাধবপাড়া, মংলা ও নায়নগর বাজার। এই দুই উপজেলার মাঝের দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার। অথচ এই ৫০০ মিটার রাস্তা পার হতে ঘুরতে হয় সাত কিলোমিটার রাস্তা। নয়ানগর বাজারে রয়েছে নয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়, সেখানে নদীর পূর্ব অংশের চার গ্রামের শিক্ষার্থীরা নয়ানগর উচ্চবিদ্যালয় পড়ালেখা করে। ওই শিক্ষার্থীদের বর্ষা মৌসুমে নদী পথ দিয়ে নৌকায় আর শুকনো মৌসুমে বাঁশে ছাটায়ের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

চৌঘুরিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নদী ভরা থাকায় নৌকাতে করে ওই এলাকার পান ব্যবসায়ীরা পান নিয়ে নৌকায় পারাপার হচ্ছে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মনে ভয় নিয়ে নৌকায় উঠছে। আবার কেউ সাইকেল নিয়েই নৌকায় চড়ছে। এ সময় কথা হয় চৌঘুরীয়া গ্রামের নয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়া অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া খাতুন সঙ্গে। ওই ছাত্রী জানায়, দামোদরপুর ও চৌঘুরিয়া গ্রামের অনেক ছেলে-মেয়ে নদীর ওপারে হাকিমপুর উপজেলার নয়ানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে নদীর ঘাটে সময়মত নৌকা না পাওয়া, নিয়মিত মাঝি না থাকা ও শুকনা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো নড়বড়ে থাকায় অনেক ছাত্র-ছাত্রী দুর্ঘটনার ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। আমাদের স্কুল করতে খুব অসুবিধা হয়। বর্ষা মৌসুমে ভরা নদীতে নৌকায় করে আসতে খুব ভয় লাগে।

স্থানীয় চৌঘুরিয়া গ্রামের পান ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জানান, বিরামপুর উপজেলার চৌঘুরিয়া, দামোদরপুর, রামচন্দ্রপুর, রণগাঁও, দাউদপুর গ্রামের পানচাষীরা পান বাজারজাত করতে পানের চালান নিয়ে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পানের বাজার হাকিমপুর উপজেলার হিলি হাটে যায়। তাদের হাটে যেতে হলে ৫০০মিটার রাস্তার বদলে ৭ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। অন্যদিকে, হাকিমপুর উপজেলার নয়ানগর, খট্টামাধবপাড়া, মংলা ও ঘাসুড়িয়া গ্রামের মানুষকে ঠিক ওই পথ ঘুরে আসতে হয়। এতে করে তাদের সময় ও অর্থ বেশি ব্যয় হয়।

ঘাটের ইজারাদার ফিরোজ করিম জানান, এবার তিনি কাটলা ইউনিয়ন থেকে ৪০ হাজার টাকায় ঘাটটি ইজারা নিয়েছেন। নদী পারাপারের জন্য জন প্রতি ৫ টাকা, সাইকেল ১০ টাকা এবং মোটরসাইকেল ২০ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া কাঁচামালের পরিমাণ অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়। তবে স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তারা যেমন দেয় তেমনি নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ২ নম্বর কাটলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানান, ওই এলাকায় একটি ব্রিজ খুবই প্রয়োজন। স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও এলাকার ১০ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষের যাতায়াতের কথা চিন্তা করে ব্রিজটি নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

সাবেক ইউপি সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন দিলু জানান, ‘এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন- একটি পাকা সেতুর। বিগত বছরগুলোতে এ আসনের সকল সংসদ সদস্য এই নদীর ওপর একটি পাকা সেতু তৈরি করে দিবেন বলে এলাকার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই যে চলে গেছেন, সেতুর সুখবর নিয়ে আর কেউ ফিরে আসেনি।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুর -৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক বলেন, চৌঘুরিয়া ঘাটে ব্রিজটি নির্মাণের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া আছে। তবে এলাকাটি রিমোট এলাকা হওয়াই অধিকতর যাচাই-বাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা