kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

এক ছাপড়াতেই মানুষ আর পশু

রফিকুল আলম, ধুনট   

২২ জুলাই, ২০১৯ ১৪:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক ছাপড়াতেই মানুষ আর পশু

বাঁশের খুঁটির ওপর ঢেউটিন, পলিথিন কিংবা চটের ছাউনি দিয়ে তৈরি করেছে ছাপড়া ঘর। তাতে নেই বেড়া। অনেকে আবার চট, পলিথিন বা ছেঁড়া কাঁথার আড়ালে মাটিতে পেতেছে বিছানা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। সেখানে মাথা গোঁজার ঠাই করে নিয়েছে বন্যাদুর্গতরা। 

বাঁধে আশ্রিতদের এক একটি ঘর মানে একটি পরিবার। জায়গার চরম সংকট। তাই গবাদিপশুর জন্য আলাদা জায়গা করতে পারেনি বাঁধে। বাধ্য হয়ে একই ছাপড়া ঘরের নিচে গবাদিপশুর সঙ্গে জীবনযাপন করছে বানভাসি মানুষ। 

সোমবার সরেজমিন গিয়ে এমন দুর্বিষহ জীবনের চিত্র চোখে পড়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে বানভাসি মানুষের আশ্রয়স্থল যমুনা নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদী ফুঁসে ওঠে। পানি বৃদ্ধির ফলে উত্তর শহড়াবাড়ি, দক্ষিন শহড়াবাড়ি, শিমুলবাড়ি, রাধানগর, বৈশাখী, বথুয়ারভিটা, বানিয়াজান, কৈয়াগাড়ি, রঘুনাথপুর, ভুতবাড়ি, পুকুরিয়া ও মাধবডাঙ্গা গ্রাম প্লাবিত হয়। এসব গ্রামে কারো ঘরে হাঁটু পানি, আবার কারো ঘরে কোমর পর্যন্ত। গত ১০ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় তিন হাজার পরিবার। 

বানভাসি কেউ নিজের ঘরেই বাঁশের মাচা তৈরি করে তার ওপর অবস্থান নিয়েছে। আবার অনেকের পক্ষে এ অবস্থায় থাকাও সম্ভব হয়নি। তাই আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধে। ছোট্র একটি ঘরে গবাদিপশুর সঙ্গে আশ্রিতদের গাদাগাদি বসবাস। এক বিছানায় জায়গা হয় না। তাই রাতে পালা করে ঘুমাতে হয়। এমন পরিবারের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০০টি। বাঁধের ছাপড়া ঘরে মশা-মাছির উপদ্রব। রোদ-বৃষ্টির দূর্ভোগ। দিনের বেলায় ঘোরাফেরা করে কর্মহীন সময় কাটানো গেলেও, রাতের আঁধার সহজে কাটতে চায় না। এমন বৈরী পরিবেশে শিশু-কিশোরদের ভোগান্তি সব চেয়ে বেশি। 

বাঁধে আশ্রিত কৈয়াগাড়ি গ্রামের দিনমজুর কোরবান আলীর চার সদস্যর পরিবার। ছাপড়া ঘরের এক পাশে গরু-ছাগল বাঁধা। অন্য পাশে মাচার ওপর বিছানা পাতা, তার নিচে হাঁস-মুরগির কলতান। গবাদিপশুর মলমূত্রে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড হওয়ায় জীবনের নেই কোনো স্থিতিশীলতা। তিনবেলা খাবার সংগ্রহ করতে না পারার কষ্ট, স্বস্তিতে বসবাস করতে না পারার দুঃখ আর কর্মহীন দিন কাটানোর ক্লান্তিতে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে তার জীবন। 

বাঁধে আশ্রিত চুনিয়াপাড়া গ্রামের গেন্দি বেগম জানান, ১০ বছর আগে স্বামী শামসুল আকন্দ মারা গেছেন। ছেলে-মেয়েসহ পাঁচ সদস্যর সংসার। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে তার একমাত্র বসতঘর। তাই আশ্রয় নিয়েছে বাঁধে। তার রয়েছে ১টি গরু, ১টি ছাগল ও ৫টি হাস-মুরগি। গবাদিপশুগুলো সঙ্গে করে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। জায়গার অভাবে ছোট্ট একটি ছাপড়া (ঘর) তৈরি করে সেখানেই গবাদিপশুর সাথে বসবাস করছেন। বানভাসি মালেকা খাতুন একা নয়, তার মতো একই চিত্র যমুনার বাঁধে আশ্রিত বাস্তুহারা অনেক পরিবারের। 

উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল জানান, প্রতিবছর বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের একই চিত্র। জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলকে বার বার অবহিত করা হয়। কিন্ত যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত জনপদের এ সব মানুষের জন্য পরিবেশসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করা হয় না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা