kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

সিদ্ধিরগঞ্জে গণপিটুনির ঘটনায় দুই মামলা, আসামি ৪০০

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ জুলাই, ২০১৯ ১১:৫৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সিদ্ধিরগঞ্জে গণপিটুনির ঘটনায় দুই মামলা, আসামি ৪০০

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পৃথক দুই গণপিটুনিতে বাক প্রতিবন্ধী ও মানসিক প্রতিবন্ধীকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত ৩-৪শ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আলআমিন নগরে হুজুগে জনতা ছেলেধরা সন্দেহে এমন একজনকে হত্যা করে, যিনি একজন বাক্প্রতিবন্ধী। যিনি বহুদিন পর নিজের ছয় বছর বয়সী মেয়েকে একটিবার স্পর্শ করতে রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন; যিনি ১০০ টাকা ধার করে মেয়ের জন্য চুড়ি আর লিপিস্টিকও সঙ্গে নিয়েছিলেন।

সিদ্ধিরগঞ্জে নিহত বাক্প্রতিবন্ধী সিরাজ ভাড়া থাকতেন ৫নং ওয়ার্ডের সাইলো এলাকার ঠিকাদার মোহর চানের বাড়িতে। কাজ করতেন রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহন থানার মুগিয়া বাজার এলাকায়। তাঁর বাবার নাম আ. রশিদ মণ্ডল। সিরাজের ভাই আলম হোসেন জানান, প্রায় ১০ বছর আগে শামসুন্নাহারের সঙ্গে বিয়ে হয় সিরাজের। ছয় বছরের এক মেয়ে আছে তাঁদের। প্রায় বছরখানেক তাঁর স্ত্রী আব্দুল মান্নান নামে এক ব্যক্তিকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। এরপর সিরাজকে ডিভোর্স দেন। এ অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে মেয়ের সন্ধান করতে থাকেন সিরাজ। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী-সন্তান মিজমিজি আলআমিন নগর এলাকায় থাকে। গত শনিবার সকালে তিনি কন্যা সাদিয়াকে দেখার আশায় ওই এলাকায় যান। যাওয়ার আগে একজনের কাছ থেকে ১০০ টাকা ধার করে মেয়ের জন্য চুড়ি আর লিপস্টিক কেনেন।

একই দিন পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায় মানসিক প্রতিবন্ধী শারমিন বেগম ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনীর শিকার হয়ে আহত হন।

ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জের কলাবাগ সাইলো রোডে মৃত সিরাজের মরদেহ নিয়ে গেলে কান্নার রোল পড়ে যায় আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে। পরে সাইলো রোড এলাকার কবরস্থানে সিরাজকে দাফন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা