kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

চাঁদপুরে ভাঙছে চর-জনপদ, গৃহহীন দেড় শতাধিক পরিবার

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২১ জুলাই, ২০১৯ ২১:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাঁদপুরে ভাঙছে চর-জনপদ, গৃহহীন দেড় শতাধিক পরিবার

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাবেষ্ঠিত দুর্গমচর রাজরাজেশ্বরে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ২ দিনে ওই চরের মান্দেরবাজার, খাসকান্দি, লগ্মীমারা ও দেওয়ানবাজার এলাকায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ভাঙনের শিকার এসব এলাকার শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে চরের একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওমর আলী হাইস্কুল। ইতিমধ্যে ভাঙনের শিকার গৃহহারা পরিবারগুলো অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে চাঁদপুর সদরের হানারচর ইউনিয়নের গোবিন্দিয়া গ্রাম ও তার আশপাশের এলাকায় মেঘনার ভাঙন চলছে। এতে আরো ৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রবল বেগে ধেয়ে আসা বন্যার পানি চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা দিয়ে দক্ষিণের সাগরে নামতে শুরু করেছে। আর তীব্র পানির চাপে এই ২ নদীর মাঝে অবস্থিত দুর্গমচর রাজরাজেশ্বরের ৪টি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। এই গ্রামগুলো হচ্ছে, মান্দেরবাজার, খাসকান্দি, লগ্মীমারা এবং দেওয়ানবাজার। এসব এলাকার শতাধিক বাড়ি ও বেশকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন নদীগর্ভে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পাশের বাঁশগাড়ি, মাঝেরচর, গোয়ালনগর এবং রায়েরচরে আশ্রয় নিয়েছেন।

বিশাল এই রাজরাজেশ্বর চরে উচ্চ শিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠান ওমর আলী হাইস্কুলও এখন ভাঙনের মুখে। প্রধান শিক্ষক সফিউল্যাহ সরকার জানান, তার স্কুলটি এর আগে ৭ বার ভেঙেছে। এবার ভাঙলে ফের আর দাঁড়াতে পারবে না। এতে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বন্ধ হয়ে যাবে-এমন আশঙ্কা করেন, এই প্রধান শিক্ষক।

রাজরাজেশ্বরের ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী ব্যাপারী জানান, এবার ভাঙন যেভাবে শুরু হয়েছে এতে বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মা ও মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। চেয়ারম্যান আরো জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও ক্ষয়ক্ষতির তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয় রবিবার দুপুরে যোগাযোগ করা হলে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হাতে আসার পর জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদেরকে সরকারি খাস ভূমিতে বসতঘর তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চাঁদপুর সদরের হানারচর ইউনিয়নের গোবিন্দিয়া গ্রাম ও তার আশপাশের এলাকায় মেঘনার ভাঙন চলছে। এতে গত কয়েকদিনে ওই এলাকার নদীপাড়ের ৫০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভাঙন ঠেকাতে নিজস্ব উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে ফাইলিং করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাও স্রোতের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে। 

বিষয়টি স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। এই বিষয় চাঁদপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পওর) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, প্রায় ৫ কিলোমিটার নদীপাড় রক্ষায় ইতিমধ্যে প্রাথমিক সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরো জানান, বাঙনের সবশেষ পরিস্থিতি সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলকে অবগত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিগত ২০১০ সাল থেকে এই পর্যন্ত চাঁদপুরে মেঘনাপাড়ের সাড়ে ২১ কিলোমিটার নদীপাড় রক্ষায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা