kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

যুদ্ধাপরাধ মামলার স্বাক্ষীকে আওয়ামী লীগ নেতার হুমকি!

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২১ জুলাই, ২০১৯ ২০:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুদ্ধাপরাধ মামলার স্বাক্ষীকে আওয়ামী লীগ নেতার হুমকি!

বগুড়ার আদমদীঘিতে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এক স্বাক্ষীকে আওয়ামী লীগের এক নেতা হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ রবিবার সান্তাহার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহিদুর বারীর বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন প্রাণনাশের হুমকি পাওয়া স্বাক্ষী এবং সান্তাহার পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক গোলাম হোসেন।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ এর মামলা নং- ৯/২০১৮ এর আসামি বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকার বিরুদ্ধে ১০ জুলাই/ ২০১৯ তারিখে গোলাম হোসেনের স্বাক্ষী প্রদানের দিন ধার্য ছিল।

এর পূর্বে ছয় জুলাই সন্ধ্যায় সান্তাহার পৌর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহিদুর বারী গোলাম হোসেনকে এই বলে হুমকি দেন যে, ওই মামলায় স্বাক্ষী দিয়ে কি হবে? তোমার জীবনের ভয় নেই, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে না। খোকা তোমাকে মেরে ফেলবে। তার চেয়ে তোমাকে মোটামুটি টাকা-পয়সা দিচ্ছি সারা জীবন বসে বসে খেতে পারবা। এ ছাড়া তাকে অপর স্বাক্ষী আবুল কালাম সরদারকে বলে দাও যে সেও যেন স্বাক্ষী দিতে না যায়। স্বাক্ষী দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন।

১০ জুলাই স্বাক্ষী দিয়ে আসার পর ১৪ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে পৌর কার্যালয়ে এসে আওয়ামী লীগের ওই নেতা গোলাম হোসেনকে ডেকে নিয়ে ফের হুমকি দেন। তিনি তাকে বলেন, তুই খোকা ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিয়েছিস। তোকে দেখে নেব কেমন করে আওয়ামী লীগ করিস। মনে রাখিস জীবনে বাঁচতে পারবি না। এ ঘটনায় গোলাম হোসেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে ডায়েরিতে উল্লেখ করেছেন।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জেড এম আলতাফুর রহমান এবং সরকার পক্ষের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ সীমনকে জানানো হয়। পরে তারা ওই স্বাক্ষীকে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেন। এতে করে সাধারণ ডায়েরি করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন।

যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতার এমন অবস্থান ও স্বাক্ষী একই দলের অপর নেতাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা এস এম জাহিদুর বারীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে জিডি হওয়ার বিষয়টি জানেন না বলে জানান। যদি হয়ে থাকে তা ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা