kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

হাত কামড়ে অপহরণ থেকে রক্ষা

মায়ের পাশ থেকে শিশু চুরির চেষ্টা

বড়াইগ্রাম (নাটোর) ও চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি    

২১ জুলাই, ২০১৯ ১০:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাত কামড়ে অপহরণ থেকে রক্ষা

নাটোরের বড়াইগ্রামে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে অপহরণকারীদের হাত কামড়ে অপহরণ থেকে রক্ষা পেয়েছে জাহিদ হাসান (১১) নামের এক ছাত্র। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার খোর্দ্দকাচুটিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাহিদ খোর্দ্দকাচুটিয়ার সৌরভ আলীর ছেলে ও জোয়াড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

এ ঘটনার পর আতঙ্কে বিদ্যালয়ে ভিড় করেন শিক্ষার্থীদের শতাধিক অভিভাবক। তাঁরা নিজ নিজ সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এর আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিজ দায়িত্বে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে ও ছুটির পর সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয় অভিভাবকদের। যেসব অভিভাবকের আসা সম্ভব হবে না তাঁদের সন্তানকে ৮-১০ জনের গ্রুপ করে বিদ্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক খোদেজা বেগম জানান, জাহিদ বিদ্যালয়ে আসার পথে বাড়ির কাছে তিন-চারজন লোক তাকে জোর করে একটি কালো মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা করে। জাহিদ তাদের হাত কামড়ে দৌড় দেয়। অন্যদিক থেকে এক নারী এলে জাহিদ তাঁকে ঘটনা খুলে বলে। তাঁরা দুজন চিৎকার শুরু করলে মাইক্রোবাসটি পালিয়ে যায়। জাহিদ বাড়ি ফেরে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজাহান আলী জানান, জাহিদের বাড়িতে গিয়ে তাকে অভয় দেওয়া হয়েছে। অপরিচিত লোক দেখলে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জোয়াড়ী বিদ্যানিকেতন কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক রাশিদা বেগম বলেন, ছেলেধরা আতঙ্কে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে তাঁদের হাতে সন্তানদের বুঝিয়ে দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমি এখনই স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আর অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।’

শিশু চুরির চেষ্টা : পাবনার চাটমোহরে মায়ের পাশ থেকে চার মাস বয়সী শিশুসন্তানকে চুরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার জগতলা কাজীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু জিহাদ হোসেন গ্রামটির ভ্যানচালক হৃদয় হোসেন ও জাম্বিয়া খাতুনের ছেলে।

জাম্বিয়া খাতুন বলেন, ‘দুই বছর যাবৎ আমি স্বামীসহ বাবার বাড়িতে থাকি। শুক্রবার রাতের খাবার খেয়ে আমরা দুজন ঘরে ঘুমিয়ে পড়ি। আমার বাচ্চাটি কোলের পাশেই ঘুমিয়ে ছিল। রাত ২টার দিকে আমার ঘুম ভেঙে গেলে পাশে হাত দিয়ে দেখি বাচ্চাটি নেই, ঘরের দরজা খোলা। আমি দ্রুত বিছানা থেকে নেমে দরজায় গিয়ে দেখি, বাচ্চাটিকে লুঙ্গির মধ্যে মুড়িয়ে শাড়ি পরা এক ব্যক্তি নিয়ে যাচ্ছে। আমি চিৎকার দিলে ওই ব্যক্তি বাচ্চাটি দরজার সামনে ফেলে পালিয়ে যায়।’

প্রতিবেশী আব্দুল মাজিদ বলেন, ‘চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে সেখানে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারি। শিশুটির মাথায়, ঘাড়ে ও চোখের এক পাশে সামান্য আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। আমাদের বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিয়েও ভীষণ চিন্তায় আছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা