kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

স্কুলে-স্কুলে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশাসন বলছে গুজব

রূপগঞ্জে ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক!

উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল

এস এম শাহাদাত, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)   

২১ জুলাই, ২০১৯ ০৫:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রূপগঞ্জে ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক!

রাজধানী ঢাকার পাশের রূপগঞ্জে হঠ্যাৎ করেই ‘ছেলে ধরা’ আতঙ্ক বিরাজ করছে। ছেলে ধরা চক্র এলাকায় ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং শিশু-কিশোরদের তুলে নিয়ে হত্যা করে মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুজবে ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার সর্বত্র। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবক মহল। প্রাইমারি স্কুল ও কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলোতে সতর্কতা করা হচ্ছে অভিভাবকদের। স্কুলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি কমে গেছে। 

ছেলে ধরা আতঙ্কে গ্রামের শিশু-কিশোররা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। গত কয়েকদিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছেলে ধরার খবর পাওয়া গেলেও এর সত্যতা মেলেনি। ওইসব এলাকাবাসী দাবি করেছেন, ছেলে ধরার ঘটনা ঘটেছে। তবে কাউকে নিতে পারেনি। কাউকে আটকও করা যায়নি। তবে প্রশাসন বলছে, এটা নিছক গুজব। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি চক্র প্রচার করছে ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেখানে অন্তত এক লাখ শিশু-কিশোরের কল্লা (মাথামুন্ড) দিতে হবে। সে মতে ৪২টি দল সারাদেশে শিশু-কিশোরদের কল্লা সংগ্রহে কাজ করছে। এমনই গুজব ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলার প্রতিটি ঘরে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শিশু-কিশোরদের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। স্কুলে-স্কুলে জারি করা হয়েছে সতর্কাবস্থা। বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার আগের চেয়ে কমে গেছে। অনেক অভিভাবক ভয়ে সন্তানদের স্কুলেও পাঠাচ্ছেন না। অথচ রূপগঞ্জের কোথাও কল্লা কাটার ঘটনা ঘটেছে-এমন খবর বা তথ্য পাওয়া যায়নি। 

এদিকে, গত কয়েকদিনে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালি, মাঝিনা, বড়ালু, কামশাইর, ছনেরটেক, দাউদপুর ইউনিয়নের পুটিনা, কুলিয়াদি, জিন্দা রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মধুখালিসহ বেশ কিছু এলাকায় ছেলে ধরার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে কোনো শিশু-কিশোরকে ছেলে ধরা সদস্যরা নিতে পারেনি বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। 

আড়িয়াব এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, শুনেছি তেতলাবো এলাকা থেকে এক শিশুকে ছেলে ধরা সদস্য সিএনজিযোগে তুলে নিয়ে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে। পরে শিশুটির চিৎকারের শব্দ শুনে ছেলেটি ফেলে রেখে সিএনজিটি দ্রুত বেগে চলে যায়। 

ছনেরটেক এলাকার মোবারক মিয়া বলেন, গত রবিবার দুপুরে ছনেরটেক এলাকায় এক মহিলা ঢুকে। তার ব্যাগে লবণসহ নানা কিছু ছিল। তাকে ছেলে ধরা সদস্য সন্দেহ করে গ্রামবাসী আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহিলাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত মনে হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, অপরিচিত লোক দেখলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বিপাকে পড়ছে ভিক্ষুক-ফেরিওয়ালা। অপরিচিত কেউ ভিক্ষা চাইতে গেলে গৃহস্থরা ভিক্ষা না দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। উপজেলার কোথাও না কোথাও শিশু ধরে নিয়ে গলা কাটছে এমন গুজবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মাঝে। আবার কোথাও কোথাও ছেলে ধরা চক্র ধরতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। প্রায় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ছেলে ধরা’র খবর আসছে। তবে ঘটনা অনুসন্ধান করতে গেলে তার সুনির্দিষ্ট কোনো সত্যতা মিলছে না। 

উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, এটা গুজব। একটি মহল রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশে এমন গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি এলাকাবাসীকে এমন মিথ্যা গুজবে কান না দেওয়ার আহবান জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম বলেন, এমন কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি বা শুনিনি। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ধরনের ঘটনার কোনো সত্যতা পাইনি এটা নিছক গুজব। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা