kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

জুড়ীতে রাস্তার কাজে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২১ জুলাই, ২০১৯ ০৩:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জুড়ীতে রাস্তার কাজে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন

রাস্তার ভাঙনের প্রতিবাদের স্থানীয় এলাকাবাসীর মানববন্ধন। ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে একটি রাস্তায় অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ হওয়ায় রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন ও গার্ড ওয়াল দেবে যায়। এ নিয়ে এলাকাবাসী শনিবার দুপুরে স্থানীয় ধামাই চা বাগানের বটতলা এলাকায় মানববন্ধন করেছেন। হোছন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরেশ রুদ্র পালের পরিচালনায় মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন স্বপ্নকুঁড়ি সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সমাজকর্মী বিজয় রুদ্র পাল, ছোট ধামাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অভিরাম চাষা।

এ সময় মানববন্ধনে এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধামাই চা বাগানের ৮নং বস্তি, মালিপাড়া বস্তি ও দুরবিনটিলার সর্বস্তরের জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই রাস্তাটি করা হয়। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু কাজের মান নিম্নমানের হওয়ায় রাস্তাটি প্রতিনিয়ত ভেঙ্গে যাচ্ছে। অচিরেই রাস্তাটি পুনরায় মেরামত ও গার্ড ওয়াল পুনঃনির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জুড়ী এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে ধামাই চা-বাগান থেকে ৮নং বস্তির শিলঘাট ভৈরবতরী পর্যন্ত রাস্তাটির ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ১ কিলোমিটার কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের বর্ষা মৌসুমে এপ্রিল মাসে। শেষ হয় অক্টোবর মাসের শেষের দিকে। কার্য সম্পাদনের দায়িত্ব পান স্থানীয় ঠিকাদার সঞ্জিত দাসের মালিকানাধীন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সঞ্জিত দাস খুবই নিম্নমানের কাজ করেছেন। কাজ শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের মে-জুন মাসে এই এক কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও গার্ড ওয়াল হেলে পড়ে যায়। সঠিক কাজ করলে এমনটি হতো না। রাস্তাটির ৫-৬টি স্থানে ভেঙে গেছে এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে হয়তো এক বছর পর রাস্তার কি হবে তা গ্রামবাসীর কেউ উপলব্ধি করতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মী বিজয় রুদ্র পাল বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য অনেক দিনের পর এই রাস্তা ও গার্ড ওয়াল করা হয়। কিন্তু মাত্র ৮-৯ মাসের মাথায় সেই রাস্তা ও গার্ড ওয়াল ভেঙে যায়। এই রাস্তা যেভাবে ভাঙ্গা শুরু হয়েছে তাতে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ দুই গ্রামের মানুষের রাস্তা চলাচলে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হবে। 

কার্য সম্পাদনের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সঞ্জিত দাস বলেন, রাস্তার সাইটে মাটি না থাকায় গার্ড ওয়াল ভেঙে গেছে। আর রাস্তার সাইটে মাটি পড়ে যাওয়ায় রাস্তার এজিম ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও গার্ড ওয়াল আমরা নিজ খরচে মেরামত করে দেব।

জুড়ী উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন বলেন, সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দেখতে যাব। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও গার্ড ওয়ালের কাজ ঠিকাদার করে দিতে বাধ্য। কাজ না করলে আমরা তাদের সিকিউরিটি দেব না। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা