kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

উখিয়ায় সাংবাদিককে কুপাল ইয়াবা কারবারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২১ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উখিয়ায় সাংবাদিককে কুপাল ইয়াবা কারবারিরা

ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা নামক এলাকায় ইয়াবা কারবারির দল একজন সংবাদকর্মীকে হত্যার উদ্দেশে কিরিচ দিয়ে কুপিয়েছে। গয়ালমারা এমএসএফ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা। তার অবস্থা সংকটজনক। হামলাকারী তার চা দোকানেও ইয়াবা বিক্রি করে। ওই সংবাদকর্মীর অপরাধ হচ্ছে তিনি এলাকায় ইয়াবা বিক্রি ও বাজারজাতকরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এ কারণে ক্ষিপ্ত ইয়াবা কারবারিরা ধারাল কিরিচ দা দিয়ে উপর্যুপরি সংবাদকর্মীকে কোপায়।

কারবারিদের ধারাল কিরিচের কোপের আঘাতে গুরুতর আহত সংবাদকর্মীর নাম রফিক মাহমুদ (৩১)। তিনি কক্সবাজার জেলা শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের দেশবিদেশ পত্রিকার উখিয়া সংবাদদাতা হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিলেন। পাশাপাশি সংবাদকর্মী রফিক মাহমুদ রোহিঙ্গা শিবিরে একটি এনজিওতেও কাজ করছেন।

কারবারিরা তাকে হত্যার উদ্দেশে মাথায় ও কানের গোড়ায় উপর্যুপরি কিরিচ দিয়ে কোপায়। সংবাদকর্মীকে হত্যা প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, পালংখালীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গয়ালমারা গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর পুত্র আতিকুর রহমান। আতিক পালংখালী সীমান্তের একজন বড় মাপের কারবারি। কারবারি আতিক স্থানীয় একজন বিএনপি কর্মী এবং পুরো পরিবারটিই বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কয়েক মাস আগে ২০ হাজার ইয়াবার চালানসহ বিএনপিকর্মী আতিক ধরা পড়েছিলেন চট্টগ্রামে। মাত্র এক মাস আগে জেল থেকে বেরিয়ে গতরাতের এ ঘটনা ঘটায়।

কারবারি আতিকের বাবার দুই স্ত্রীর রয়েছে ৭/৮ সন্তান। তাদের এক ভাই পঙ্গু। এই পঙ্গু ভাই ছাড়া অন্যান্যরা সবাই কারবারে জড়িত। সাংবাদিক রফিককে হামলার ঘটনায় তারা সকল ভাই এবং পাড়ার স্বজনরা অংশ নেয়। হামলার ঘটনায় সাংবাদিক রফিকের মৃত্যু না হওয়ায় হামলাকারিরা নারী-পুরুষ মিলে রাস্তাও অবরোধ করে রাখে যাতে তিনি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে না পারেন।

বিষয়টি উখিয়া থানার নবাগত ওসি মো. আবুল মনসুর ও পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদারকে তাৎক্ষণিক অবহিত করা হলে পুলিশের দল তৎপর হয়। সেই সঙ্গে পালংখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সহ একদল কর্মীও এগিয়ে ঘটনাস্থলে যায় কারবারিদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করতে। সংকটাপন্ন অবস্থায় সাংবাদিক রফিককে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের উখিয়া ও টেকনাফ সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান ও উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল মনসুর রাতে জানান- ‘আমরা আহত সাংবাদিক রফিককে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখেছি। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা পালংখালী সীমান্তের ইয়াবা কারবারিদের শিকড় সম্পূর্ণভাবে তুলে ম্যাচাকার করে দেব।’ রাতে এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। প্রসঙ্গত মিয়ানমার সীমান্তের পালংখালী ইউনিয়নের ৯ জন নির্বাচিত ইউপি মেম্বারের মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে ইয়াবা কারবারের অভিযোগ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা