kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

শরীয়তপুরে নদী ভাঙনে ১০ বিঘা ফসলি জমি বিলীন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

২০ জুলাই, ২০১৯ ১৭:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শরীয়তপুরে নদী ভাঙনে ১০ বিঘা ফসলি জমি বিলীন

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। এর মধ্যে উকিল উদ্দিন মুন্সীরকান্দি গ্রামের ভাঙনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। গত পাঁচ দিনের ব্যবধানে পদ্মা নদীর ভাঙনে উকিল উদ্দিন মুন্সীরকান্দি গ্রামের ভাঙনের বিলীন হয়েছে পদ্মা পাড়ের ১০ বিঘা ফসলি জমি। ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে গেছে ৮টি পরিবার। এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গেছে নড়িয়া-জাজিরা সড়ক। পানি ঢুকে পরায় ৪টি বিদ্যালয়ের পাঠ দান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয় বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, পদ্মা নদীর শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর পয়েন্টে গত এক সপ্তাহে ১২০ সেন্টিমিটার পনি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নদীতে স্রোতও বেড়েছে। আর এ কারণে নড়িয়া-জাজিরার পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। স্রোতের কারণে বালুবাহী নৌযান বাল্কহেড চলাচল করতে পারছে না। এ কারণে বালু সরবরাহ না থাকায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা যাচ্ছে না। আর নদীর তীর উপচে পানি প্রবেশ করায় প্রকল্পের দুটি অংশের সিসি ব্লক তৈরির কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। নড়িয়া-জাজিরা সড়কের মোক্তারেরচর এলাকায় দিয়ে পনিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়া ওই সড়কে জান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়াও নড়িয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পরায় শেরআলীমাদবর কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঈশরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেবেকা গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর জপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

নাওডোবা ইউনিয়নের উকিল উদ্দিন মুন্সীরকান্দি গ্রামের শাহজাহান খানের বাড়ি থেকে শুরু করে সিরাজুল বেপারীর বাড়ি পর্যন্ত পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকা ভাঙন প্রবণ। গত ১২ বছরে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে এসব এলাকার কয়েক হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। কিন্তু এ বছর এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত পাঁচ দিনে বাড়িঘর সরিয়ে নিয়ে গেছে গ্রামটির সিরাজুল বেপারী, ইদ্রিস বেপারী, মজিবর ছৈয়াল, আবু কালাম মৃধা, সজল তালুকদার, শাহজাহান খা, রুবেল বেপারী, নুরু বেপারী।

নড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলম বলেন, নড়িয়ার চারটি বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, পদ্মার নদীর পানি প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েকদিনে পদ্মার পানি সুরেশ্বর পয়েন্টে ১২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। নদীর পারের কিছু নিম্নাঞ্চালে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে সেসব এলাকা পর্যবেক্ষণ করে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা