kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

নিবন্ধন ছাড়া বিয়ে করে দিশেহারা কিশোরীরা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ    

২০ জুলাই, ২০১৯ ১৩:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিবন্ধন ছাড়া বিয়ে করে দিশেহারা কিশোরীরা

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বাল্যবিয়ের কারণে অনেক কিশোরী বধূ এখন স্বামী-সংসার হারিয়ে বেকায়দায় পড়েছে। নিবন্ধনের বিষয়টি তোয়াক্কা না করে শুধু মুনশি, ইমাম-মুয়াজ্জিন কিংবা হুজুর দিয়ে দোয়া পড়িয়ে বিয়ে হওয়ায় সন্তান জন্মের পর স্বামীরা তাদের খোঁজখবর নিচ্ছে না। আইনি ঝামেলা এড়াতে তারা এখন বিয়েটাই অস্বীকার করছে। সেই সঙ্গে নিজেদের সন্তানকেও অস্বীকার করছে স্বামীরা। সম্প্রতি এমন আরও দুটি ঘটনা ঘটেছে।

এদের মধ্যে একজন পলি আক্তার (১৩)। সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তার বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের ঘটনাটি প্রশাসন জানার পর আয়োজন বন্ধ করে দিলেও গভীর রাতে মসজিদের মুয়াজ্জিন দিয়ে শুধু দোয়া পড়িয়ে তড়িঘড়ি করে বরের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। বছর যেতে না যেতেই অন্তঃসত্ত্বা পলিকে অনেক যন্ত্রণার পর বাবার বাড়িতে ফিরে আসতে হয়। সেখানেই জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজখবর নেয়নি স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। নিজের সন্তানের ভরণ-পোষণসহ শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার দাবি নিয়ে স্বামীর দ্বারস্থ হলেও বিয়ের বিষয়টিই অস্বীকার করছে সে। দিশাহারা পলির পরিবার এখন আইনি পদক্ষেপের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পলি আক্তার উপজেলার মুশল্লী ইউনিয়নের মোরাগালা গ্রামের মৃত ফখর উদ্দিনের মেয়ে। বছর দুয়েক আগে পাশের শেরপুর ইউনিয়নের মেরাকোনা গ্রামের সোহরাব উদ্দিনের ছেলে উজ্জ্বল মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়।

পলির মা মোছাম্মৎ রুবিয়া আক্তার জানান, এক লাখ টাকা নগদসহ বিভিন্ন আসবাব দিয়ে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়। তখন প্রশাসন বাধা দিলেও বিয়ের পর বর বিদেশ যাবে—এই আশায় হাতছাড়া না করে নিবন্ধন ছাড়াই বিয়ের কাজটি সম্পন্ন করা হয়। এখন বিয়ের প্রমাণাদি না থাকায় আইনি পদক্ষেপ নিতে তাদের সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বন্যা আক্তার (১৩) নামের আরেক কিশোরীও একই অবস্থার শিকার। তার বাড়ি উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই গ্রামে। তাকেও বছর দুয়েক আগে কোনো ধরনের নিবন্ধন ছাড়াই প্রতিবেশী মোস্তফার ছেলে রুবেল মিয়ার (২২) সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর রুবেল স্ত্রী বন্যাকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

বন্যা জানায়, বিয়ের পরপরই তাঁর গর্ভে সন্তান আসে। এ অবস্থায় স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির অত্যাচারে বাবার বাড়িতে চলে আসতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজখবর নেয়নি তারা। স্বামী ও সন্তানের দাবি নিয়ে বারবার তাদের কাছে ধরনা দিলেও বিয়ের কোনো প্রমাণ নেই অজুহাতে তাদের প্রত্যাখ্যাত হতে হয়। গ্রাম্য সালিসেও এ ঘটনার কোনো বিচার পায়নি। উপরন্তু স্বামী রুবেল সাফ জানিয়ে দেয়, জন্ম নেওয়া এই সন্তান তার না। এ ধরনের অপবাদে বন্যা এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

নান্দাইল থানার ওসি মনসুর আহাম্মাদ জানান, এ ধরনের ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে শিশু ও নারী নির্যাতন বিষয়ে একটি সেল খোলা হয়েছে। সেখানে দুইজনের ঘটনা লিখিত আকারে জানালে প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে।

এ ব্যাপারে নান্দাইল মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান তসলিমা বেগম লাভলী বলেন, ‘আমাদের কাছে এসে সহায়তা চাইলে সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা