kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

প্রবল স্রোতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি চলাচলে অচলবস্থা

পারের অপেক্ষায় শত শত যানবাহন

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ জুলাই, ২০১৯ ২৩:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রবল স্রোতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি চলাচলে অচলবস্থা

ফেরি পারের অপেক্ষায় ঢাকা-আরিচা মহসড়কের উথুলী সংযোগ মোড় থেকে শিবালয় সদর উদ্দিন কলেজ পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি। ছবি কালের কণ্ঠ

গত কয়েক দিন ধরে নদীতে পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ফেরি চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।  বহরে  থাকা বেশির ভাগ ফেরিগুলো তীব্র স্রোতের বিপরিতে চলতে গিয়ে দফায় দফায় বিকল হয়ে পড়ছে। এতে এ নৌ-রুটে  সৃষ্টি হয়েছে ফেরি সঙ্কট। 

এছাড়া বাকি ফেরিগুলো নদীর স্রোতের কারণে পারাপারে দ্বিগুণ সময় লাগায় টিপ সংখ্যাও কমে গেছে।  শুক্রবার সন্ধ্যা পর্য়ন্ত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় পাটুরিয়া পয়েন্টে  ২৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি  পেয়ে বিপদ সীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ‌ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘাটের পন্টুন পানি লেভেল থেকে ওপরে উঠানো হচ্ছে।

এ সময় পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় চার শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ ছয় শতাধিক যানবাহন পারের অপেক্ষায় থাকে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দূরপাল্লার বাসগুলোকে আগে পার করা হলেও তাদের  দীর্ঘ সময় ঘাটে বসে থেকে পার হতে হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রী ও চালকরা।

বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান প্রনয় কান্তি বিশ্বাস শুক্রবার পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনের সময় কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদককে বলেন, উত্তর থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল যমুনা নদী হয়ে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিশে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এ নৌ-রুটে থাকা  ইউটিলিটি ও কে-টাইপের ফেরিগুলো তীব্র স্রোতের বিপরিতে চলাচল করতে সক্ষম হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে শুধু রোরো ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এটা প্রাকৃতিক বিপর্যয়, এতে কারো হাত নেই। এমন পরিস্থিতিতে  চালক ও যাত্রীদের আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সকল নৌ-রুট ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্য়লয়ের মহা-ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আজমল হোসেন জানান,  নদীতে স্রোতে ফেরিকে মূল চ্যানেল থেকে দুই-তিন কিলোমিটার ভাটিতে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে স্বাভাবিক সময়ের থেকে বেশি সময় লাগছে। এ কারণে ফেরি টিপ সংখ্যাও কমে গেছে। এছাড়া কয়েকটি ফেরি বেশ পুরনো হওয়ার কারেণ ভরা নদীতে স্রোত ঠেলে চলতে গিয়ে মাঝে মাঝে বিকল হয়ে পড়ছে। ফলে ঘাটে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নৌ- রুটে ছোট বড় ১৫টি ফেরির মধ্যে ১২টি ফেরি চলাচল করছে। বাকি ফেরিগুলো পাটুরিয়া ভাসমান কারখানায় সাময়িক মেরামতে রয়েছে। এদিকে বিআইডিব্লিউটিএর চেয়াম্যান মাহাবুউল ইসলাম পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া  ঘাটে পরিস্থিতি পরির্দশন করেন।

গেল্ডেন পরিবহনের ফারুক হোসেন নামের এক যাত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা থেকে যশোর যাচ্ছি, ঘাটে এসে প্রায় ১০ ঘণ্টা যাবৎ বসে আছি। প্রচণ্ড গরমে ছেলে মেয়েদের নিয়ে নাকাল অবস্থার মধ্যে আছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি নতুন ফেরি সংযুক্ত করে আমাদের এ রুটের যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব করুক।

আছাদ নামের এক পণ্যবাহী ট্রাক চালক জানান, ঘাটে পার হতে এসে গত পাঁচ দিন যাবৎ বসে আছি। কখন পার হতে পারবো তাও বলতে পারছি না । ঘাটে খাওয়া, গোসল, বাথরুম করা খুব কষ্ট হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা