kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম, শারীরিক সম্পর্ক; অতঃপর...

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৯ জুলাই, ২০১৯ ২১:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম, শারীরিক সম্পর্ক; অতঃপর...

লুকেশ রাহুলের (ছদ্মনাম) ফেসবুকে পরিচয় হয় মিনতি রায়ের (ছদ্মনাম) সঙ্গে। তারপর তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। তাদের সম্পর্ক প্রেম থেকে শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়। আর এখন সেই প্রেমিক করে বসলেন প্রতারণা, বিয়েতে করে দিলেন ‘না’। ওই ফেসবুক-প্রেমিক এখন ‘আতঙ্কের নাম’। হুমকি দিচ্ছেন, নিজেদের ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার। এমনকি মেরেও ফেলতে চান!

শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মিনতি উপায় না দেখে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন করেছেন। যেটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। পুলিশ বলছে, নিরাপত্তা বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। অন্যদিকে ফেসবুক প্রেমিক লুকেশ ‘গা’ ঢাকা দিয়েছেন। লুকেশের পরিবারও এখন বিষয়টি মানতে নারাজ। এ অবস্থায় পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছে মিনতির পরিবার।    

এলাকাবাসী, পরিবার ও থানার করা জিডি সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার শেরপুরের লুকেশ রাহুলের (ছদ্মনাম) সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় বাগানবাড়ি এলাকার কলেজছাত্রীর। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে উঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি পাওয়ায় প্রেমিকের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করেন মিনতি। শারীরিক সম্পর্কও হয় তাদের মধ্যে। এ অবস্থায় মিনতি বিয়ের প্রস্তাব দেন প্রেমিককে। এরপর থেকেই প্রেমিক ‘গা ঢাকা’ দেন। পরে এ নিয়ে এলাকায় একাধিক সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে বিয়ের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। লুকেশ ও তার পরিবার বিয়েতে সম্মতিও দেয়। এরই মধ্যে মিনতি অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করা যায়নি। 

থানায় দায়ের করা জিডিতে উল্লেখ করা হয়, বিয়েতে রাজি হয়েও এখন লুকেশ ও তার পরিবার টালবাহানা করেছেন। এখন সব অস্বীকার করে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। লুকেশ বলছেন, তাদের ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবেন। এমনকি মেরে ফেলারও হুমকি দিচ্ছেন।

মেয়েটির পরিবারিক সূত্র জানায়, প্রেমিকের এমন আচরণের কারণে মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে মিনতি এবার এইচএসসিতে ফেল করেছেন। মিনতি তিনবার আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন। এখন তিনি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. খবির উদ্দিন জানান, এ নিয়ে গত ১৪ জুলাই সর্বশেষ একটি বৈঠক হয় যেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। মেয়েটি অসুস্থ থাকায় বৈঠকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেননি উপস্থিত লোকজন। 

এদিকে লুকেশের বাবা তার ছেলে ও ওই মেয়ের মধ্যে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার বিকেলে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বললেই তো আর বিয়ে হয়ে যায় না। আমার ছেলে ওই মেয়েকে চিনলেও কোনো সম্পর্ক ছিল না। থানায় জিডি হওয়ার বিষয়টিও আমার জানা নেই।’

জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা